গর্ভাবস্থায় যেই ৭ টি কাজ করলে মা ও শিশু সুস্থ থাকবে

HEALTHx

 

একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দময় মুহুর্তের একটি হচ্ছে সন্তান জন্মদান।  সন্তান জন্মদানের জন্য নারীর প্রকৃতিপ্রদত্ত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ও প্রস্তুতিই হচ্ছে তার গর্ভাবস্থা।  প্রত্যেক গর্ভবতী মা-ই সুস্থ-স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা প্রত্যাশা করেন।  সুস্থ গর্ভাবস্থা মানে সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু।  এর জন্য গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়ম মেনে চলা অবশ্যই  প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা।

চলুন জেনে নেই এরকম ৭টি কাজ যা সুস্থ রাখবে মা ও শিশুকে।

) পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবারঃ এ সময়ে খাবারে থাকতে হবে একটু বাড়তি ক্যালরি। গর্ভাবস্থায় গর্ভে সন্তানের জন্যে প্রয়োজন হয় বাড়তি খাবার। খাবারের পরিমাণ বাড়ার কারণে যেন কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়, সেজন্যে খাবারে থাকতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ। খাবারের আঁশ বা মাইক্রোফাইভার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ। শাকসবজি, ফল-মূলে ভিটামিনের আদর্শ উৎস। এ সময়ে বেশি পরিমাণে মাছ খাওয়া ভালো। মাছে আছে ওমেগা ও ফ্যাটি এসিড, যা শিশুর বিকাশে সহায়ক। যথেষ্ট পানিও পান করতে হবে প্রতিদিন। 

) দরকার পরিমিত বিশ্রাম এবং ব্যায়ামঃ  ক্যালরি ইনটেক যেহেতু থাকে প্রচুর, এই সময়ে তাই একেবারে  একেবারে শুয়ে বসে থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি অনুচিত দিনভর খাটুনি। হালকা কাজের ফাঁকে চাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম। পাশাপাশি দরকার প্রতিদিন শরীরচর্চা। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় হাঁটা উচিত; সপ্তাহে পাঁচদিন।

পর্যাপ্ত ঘুম হতে হবেঃ গর্ভাবস্থায় ঘুম শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক। দিনে-রাতে মোট সাত-আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। দুপুরে খাওয়ার পর হালকা ঘুমানো ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম এই সময়ে হরমোনাল ব্যালান্স বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ক্ষতিকর জিনিসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবেঃ গর্ভাবস্থায় ধুমপান করলে গর্ভের সন্তান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে মারাত্মক পরিমাণে। পরোক্ষ ধুমপানেও একই ক্ষতির পরিমাণ কম হয় না। সুতরাং, এই সময়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধুমপান এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া এক্স-রে ও অন্যান্য বিকিরণ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এতে গর্ভস্থ শিশু শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে।

আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা ভালোঃ একজন প্রসূতি মায়ের জন্য সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পড়া ভালো। এতে ত্বক ও বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ থাকবে স্বাভাবিক। এ সময়ে হাই হিল জুতো স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্ল্যাট চটি জুতা ভালো। এতে মেরুদন্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে।

)  পরিহার করুণ প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া ঔষধঃ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে। তাই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবেনা। 

গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবাঃ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাকে ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ বলে।  মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য গর্ভবতী মায়ের ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ করাতে হবে নিয়মিত।  এ জন্য আদর্শ হচ্ছে, গর্ভাবস্থায় মোট ১৪ বার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স বা অন্য কোন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া।

 

গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পেতে ক্লিক করুন...