ডায়াবেটিস। প্রভাব যখন অর্থনীতিতে

HEALTHx

 

 

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের ডায়াবেটিস আছে। তার মধ্যে প্রায় ২০ কোটি মানুষ জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস নামক মারাত্মক এক রোগ আছে। আগামী ২০৩৫ সালে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাড়াবে প্রায় ৬০ কোটি।

যেহেতু ৯৫% ডায়াবেটিস রোগ টাইপ ২ প্রকারের, সুতরাং লাইফস্টাইল পরিবর্তন এই রোগের সম্ভাবনা ৬০% কমিয়ে দিতে পারে। আজকাল অজানা কারণে অজ্ঞান হওয়া রোগির জন্য প্রথম যেই টেস্ট করা হয় সেটা হলো - ডায়াবেটিস এর কমপ্লিকেশন হাইপো অথবা হাপারগ্লাইসেমিয়া। যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাদের ৭৫% রোগী ৬০ বছরের  আগেই মারা যায়।।

ডায়াবেটিস নামের আভিধানিক অর্থ "Sweet Urine" বা মিষ্টি মূত্র। মূত্রের উৎকট গন্ধের মধ্যেও যদি পিঁপড়ার আগমন হয়, তাহলে ধরে নিতে পারেন এই লোকের ডায়াবেটিস আছে। কারন রেনাল থ্রেসহোল্ড ক্রস করার পর গ্লুকোজ আর শরীরে থাকতে চায় না। অসমোটিক ডাইউরেসিস হয় বলে বার বার প্রস্রাব হয়, তাই একে বহুমুত্রও বলে।

 

আসুন জেনে নেই এই ডায়াবেটিস রোগের ভয়াবহতার কিছু চিত্র -

১। পৃথিবীর সব রোগের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল রোগের নাম ডায়াবেটিস। শুধু বাংলাদেশেই এই রোগে রোগীর সংখ্যা প্রায় ১.৫ কোটি। তার মানে প্রতি ১১ জনের মধ্যে ১ জনের ডায়াবেটিস আছে।

২।  সাড়া বছরে সাড়া দুনিয়ায় যত মানুষ এইডস ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে মারা যায় শুধু ডায়াবেটিসে মৃত্যুর সংখ্যা একক ভাবে তার চেয়েও বেশী ।

৩। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রায় ৬৭% রোগী স্ট্রোক অথবা হার্ট এটাকে মারা যান।

৪। ডায়াবেটিস সাইলেন্ট কিলার । তাই গোপনে কিডনি, রেটিনা, হার্ট , ব্রেইনকে নষ্ট করে দিবে। এখানে মজার বিষয় হলো- ফ্রাংক ডায়াবেটিসের চেয়ে অল্প মাত্রা ডায়াবেটিস বা ইমপেয়ারড গ্লুকোজ আরো বেশী ক্ষতিকর।

৫।।আমেরিকান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশন এনার্জি ড্রিংকস খেতে কড়া ভাবে নিষেধ করেছেন। কারন এটা একবারে ব্লাড গ্লুকোজ খুব দ্রুত বাড়িয়ে ফেলে। এতে ইনসুলিন রিলিজের সেকুয়েন্স নষ্ট হয়। ডিজগ্লাইসেমিয়া হয়ে যেতে পারে এতে। আল্টিমেটলি ডায়াবেটিস। 

 

আমাদের দেশের মানুষ এর ধারনা - চিনি অথবা মিস্টি বেশী খেলে ডায়াবেটিস হয়। ধারনাটা সম্পূর্ন ভুল। কারন টাইপ ১ ডায়াবেটিস জন্ম থেকেই থাকে।

আবার রিসিপ্রোকাল ধারনাও আছে সবার মধ্যে। সেটা হলো - ডায়াবেটিস হলে মিস্টি অথবা চিনি খাওয়া যাবে না। সেটা আরো বড় ভুল। একটা মিষ্টি খেলে একবেলা কার্বোহাইড্রেট মানে ভাত বা রুটি বন্ধ রাখলেই সমান হয়ে গেলো।।

মনে রাখতে হবে - ডায়াবেটিস এর জন্যে মিষ্টি বাঁধা নয়, কিন্তু ডায়েট, ড্রাগ অথবা ডিসিপ্লিন মেনে ডায়াবেটিসকে কন্ট্রোল করা হলো বড় ব্যাপার। মাঝে মাঝে গ্লুকোজ কমে হাইপো হয়ে যেতে পারে - তখন মিষ্টি বা চিনির পানি না দিলে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে।

করোনা আক্রান্ত রোগীর যদি পূর্ব থেকেই ডায়াবেটিস থেকে থাকে, তাহলে মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে যারা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা নেন তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৭২ ভাগ ট্যাবলেট খান এবং প্রায় ১৭ ভাগ ইনসুলিন নেন। বাকি ১১ শতাংশের দুটোই প্রয়োজন।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি।

একজন রোগীর যদি প্রতিমাসে গড়ে দুই হাজার টাকা খরচ হয়, তাহলে সে হিসেবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বাবদ প্রতিমাসে বাংলাদেশে খরচ হচ্ছে প্রতি মাসে ১৪ শত কোটি টাকা এবং প্রতি বছরে খরচ হচ্ছে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
ডায়াবেটিস অন্য আরো নানা ধরনের রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে চিকিৎসা ব্যয় বাড়তেই থাকে।

শারীরিক পরিশ্রম এবং খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন না হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় দুর্যোগের বার্তা নিয়ে আসবে ডায়াবেটিস।

এ রোগের চিকিৎসা নিতে মানুষের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে তেমনি মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। যেটি দেশেও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।