গর্ভাবস্থায় যেই ৭ টি কাজ করলে মা ও শিশু সুস্থ থাকবে

HEALTHx

 

একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দময় মুহুর্তের একটি হচ্ছে সন্তান জন্মদান।  সন্তান জন্মদানের জন্য নারীর প্রকৃতিপ্রদত্ত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ও প্রস্তুতিই হচ্ছে তার গর্ভাবস্থা।  প্রত্যেক গর্ভবতী মা-ই সুস্থ-স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা প্রত্যাশা করেন।  সুস্থ গর্ভাবস্থা মানে সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু।  এর জন্য গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়ম মেনে চলা অবশ্যই  প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা।

চলুন জেনে নেই এরকম ৭টি কাজ যা সুস্থ রাখবে মা ও শিশুকে।

) পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবারঃ এ সময়ে খাবারে থাকতে হবে একটু বাড়তি ক্যালরি। গর্ভাবস্থায় গর্ভে সন্তানের জন্যে প্রয়োজন হয় বাড়তি খাবার। খাবারের পরিমাণ বাড়ার কারণে যেন কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়, সেজন্যে খাবারে থাকতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ। খাবারের আঁশ বা মাইক্রোফাইভার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ। শাকসবজি, ফল-মূলে ভিটামিনের আদর্শ উৎস। এ সময়ে বেশি পরিমাণে মাছ খাওয়া ভালো। মাছে আছে ওমেগা ও ফ্যাটি এসিড, যা শিশুর বিকাশে সহায়ক। যথেষ্ট পানিও পান করতে হবে প্রতিদিন। 

) দরকার পরিমিত বিশ্রাম এবং ব্যায়ামঃ  ক্যালরি ইনটেক যেহেতু থাকে প্রচুর, এই সময়ে তাই একেবারে  একেবারে শুয়ে বসে থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি অনুচিত দিনভর খাটুনি। হালকা কাজের ফাঁকে চাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম। পাশাপাশি দরকার প্রতিদিন শরীরচর্চা। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় হাঁটা উচিত; সপ্তাহে পাঁচদিন।

পর্যাপ্ত ঘুম হতে হবেঃ গর্ভাবস্থায় ঘুম শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক। দিনে-রাতে মোট সাত-আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। দুপুরে খাওয়ার পর হালকা ঘুমানো ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম এই সময়ে হরমোনাল ব্যালান্স বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ক্ষতিকর জিনিসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবেঃ গর্ভাবস্থায় ধুমপান করলে গর্ভের সন্তান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে মারাত্মক পরিমাণে। পরোক্ষ ধুমপানেও একই ক্ষতির পরিমাণ কম হয় না। সুতরাং, এই সময়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধুমপান এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া এক্স-রে ও অন্যান্য বিকিরণ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এতে গর্ভস্থ শিশু শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে।

আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা ভালোঃ একজন প্রসূতি মায়ের জন্য সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পড়া ভালো। এতে ত্বক ও বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ থাকবে স্বাভাবিক। এ সময়ে হাই হিল জুতো স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্ল্যাট চটি জুতা ভালো। এতে মেরুদন্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে।

)  পরিহার করুণ প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া ঔষধঃ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে। তাই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবেনা। 

গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবাঃ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাকে ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ বলে।  মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য গর্ভবতী মায়ের ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ করাতে হবে নিয়মিত।  এ জন্য আদর্শ হচ্ছে, গর্ভাবস্থায় মোট ১৪ বার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স বা অন্য কোন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া।

 

গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পেতে ক্লিক করুন...

ডায়রিয়া হলে কি করবেন?

HEALTHx

 

 

ডায়রিয়া কী?


সাধারণত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩ বার বা তার থেকে বেশি পানির মত পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। এক্ষেত্রে তিনবারের কম হলে ভয়ের কিছু নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই ডায়রিয়া। প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৭০ কোটি শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয় এই ঘাতকব্যাধি।

ডায়রিয়ার কারণে শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে। সারা বিশ্বে ৭৮ কোটি মানুষ সুপেয় পানি পান করতে পারে না এবং প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খান ব্যবহার করতে পারে না। এজন্যে উন্নয়নশীল বিশ্বে ডায়রিয়ার প্রকোপ খুব বেশি হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৩ বছর বয়সী শিশুরা বছরে প্রায় ৩ বার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।

 

শিশু-কিশোরদের মধ্যে ডায়রিয়ার লক্ষণ

  • ঘণ ঘণ পিপাসা পাওয়া
  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম প্রস্রাব হওয়া। একটানা ৩ ঘন্টা বা তার বেশি সময় ধরে প্রস্রাব না হওয়া
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • মুখ শুষ্ক দেখানো
  • শিশুর কান্নার সময় চোখে পানি না থাকা
  • ত্বক কুচকে যাওয়া


পানিশূন্যতা


ডায়রিয়া হলে পায়খানা ও বমির পাশাপাশি মূত্র ও ঘামের সাথে শরীর থেকে electrolytes (সোডিয়াম, ক্লোরাইড, পটাশিয়াম এবং বাইকার্বনেট) বের হয়ে যায়। electrolytes এর ঘাটতি পূরণ না হলে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতা খুব বেশি হলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।

 

পানিশূন্যতার লক্ষণসমূহ

  • ঘণ ঘণ পিপাসা পাওয়া
  • মুখ, জিহ্বা ও গলা শুকিয়ে যাওয়া
  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম প্রস্রাব হয় অথবা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • গাঢ় বর্ণবিশিষ্ট প্রস্রাব হওয়া
  • ক্লান্ত বোধ হওয়া
  • চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চোখের কোটরে ঢুকে যাওয়া
  • শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস হয়, নাড়ি (Pulse) খুব দ্রুত এবং ক্ষীণ হয়ে যাওয়া
  • রোগী নিস্তেজ ও অসাড় হয়ে যায় এবং কখনো কখনো পেট ফুলে যাওয়া
  • ত্বকের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া বা কুচকে যাওয়া। রোগীর শরীরের চামড়া টেনে ছেড়ে দিলে দু-সেকেন্ডের মধ্যে যদি পূর্বের মতো না হয়ে কুচকে থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোগীর পানিশূন্যতা খুব বেশি।
  • চোখে ঝাপসা দেখা


ডায়রিয়া কেন হয়?


ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। মূলত জীবাণু সংক্রামিত হলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে-

  • ভাইরাসজনিত। যেমন : রোটা ভাইরাস, এস্ট্রো ভাইরাস, এডেনোভাইরাস ইত্যাদি।
  • ব্যাকটেরিয়াজনিত। যেমন : সালমোনেলা, শিগেলা, ই কলাই, ভিব্রিও কলেরি, ক্যামপাইলোব্যাকটর ইত্যাদি।
  • পরজীবীজনিত। যেমন : জিয়ারডিয়া, ক্রিপটোসপরিডিয়াম, সাইক্লোসপরা ইত্যাদি।
  • দূষিত পানি পানের মাধ্যমে ডায়রিয়া ছড়ায়।
  • দূষিত খাবার বা পঁচা-বাশি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে।
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে বা ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলেও ডায়রিয়া হতে পারে।
  • কিছু ওষুধ; যেমন, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ অ্যান্টাসিড, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, জোলাপ ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হওয়ার কারণ।
  • এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন - খাদ্য হজম না হওয়া, অন্ত্রের কৃমি ইত্যাদি।

এছাড়াও ভ্রমণের সময় অস্বাস্থ্য পরিবেশ হতে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে ডায়রিয়া হতে পারে।

 

ডায়রিয়া হলে কী করণীয়


ডায়রিয়া হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। পানিশূন্যতা তীব্র হলে তা  শিশু-কিশোরদের জন্য বেশ বিপদজনক হতে পারে। ডায়রিয়া হলে যথাযম্ভব দ্রুত কিছু ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যেমন - 

  • শরীর থেকে যতোটা লবণ ও পানি বেরিয়ে যাচ্ছে তা পূরণ করা। এজন্য রোগীকে বারে বারে খাবার স্যালাইনসহ তরল খাবার খাওয়ানো। এছাড়া যে কারণে ডায়রিয়া হয়েছে তার চিকিৎসা করা।
  • যতোবার পাতলা পায়খানা বা বমি হবে ততোবারই সমপরিমাণ খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ান।
  • রোগীকে স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।

 

শিশুদের ডায়রিয়া হলে করণীয়


শিশুর ডায়রিয়া হলে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাবার স্যালাইন খাওয়ান। এছাড়া শিশুদের মধ্যে নিম্নোক্ত উপসর্গগুলির দেখা গেলে সরাসরি একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ - 

  • ডায়রিয়া যদি ২ দিনের বেশি থাকা
  • বার-বার বমি হওয়া
  • ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ বার বা তার বেশি পায়খানা হওয়া
  • ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর থাকা
  • তলপেট বা মলদ্বারে গুরুতর ব্যাথা অনুভব করা
  • মলের সাথে যদি রক্ত বের হওয়া এবং মলের রং যদি কালো হওয়া
  • পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেওয়া


ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়

ডায়রিয়া কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করলেও কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে খুব সহজেই ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা যায়-  

  • শিশুদের জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো
  • সম্ভব হলে রোটা ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করা
  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা; বিশেষ করে সংক্রামক রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা
  • যদি ডাইরিয়া বা বমি শুরু হয় তাহলে তৎক্ষণাৎ খাবার স্যালাইন খাওয়া শুরু করা এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া
  • বাইরের খোলা, নোংরা ও বাসি খাবারদাবার পরিহার করা

 

পানিশূন্যতা কিভাবে পূরণ করা যায়


ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। ফলাফল হিসাবে, শরীরে দেখা দেয় পানি শূন্যতা। শরীরের পানিশূন্যতা মেটানোর জন্যে যথাসম্ভব দ্রুত দুটি পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে-

  • খাবার স্যালাইন খাওয়ানো।

  • রোগীর বেশি পানিশূন্যতা হলে অথবা খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরও যদি পানিশূন্যতা না কমে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিরার মধ্যে (ইন্ট্রাভেনাস) স্যালাইন দিয়ে পানিশূন্যতা পূরণ করতে হয়।

 

খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর নিয়ম


ডায়রিয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে দেরি হলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। পাতলা পায়খানা ও বমির পরিমাণ মোটামুটি আন্দাজ করে কমপক্ষে সেই পরিমাণ স্যালাইন খাওয়াতে উচিত।
ডায়রিয়া হলে যেহেতু বমির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে বমি হলেও স্যালাইন খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। অনেক সময় স্যালাইন খওয়া মাত্রই বমি হতে পারে। এক্ষেত্রে অল্প অল্প পরিমাণে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
যতোদিন পর্যন্ত পাতলা পায়খানা চলতে থাকবে ততোদিন পর্যন্ত স্যালাইন খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। তবে ২ দিনের বেশি ডায়রিয়া হলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।
শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে চামচ দিয়ে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। তবে শিশুকে শোয়ানো অবস্থায় পানি, দুধ বা স্যালাইন খাওয়ানো যাবে না। শিশুকে কোলে নিয়ে অথবা মাথা কিছুটা উচু করে খাওয়াতে হবে।
বাজার হতে প্যাকেট স্যালাইন কিনে স্যালাইন তৈরি করলে তা ১২ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যায়। এক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী স্যালাইন বানাতে হবে ও খাওয়াতে হবে। তবে বাড়িতে তৈরিকৃত স্যালাইন মাত্র ৬ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যায়।
স্যালাইন খাওয়ানোর পরও যদি রোগীর অবস্থা খারাপ হয়, যেমন পেট ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, নিস্তেজ হয়ে পড়া, শ্বাস কষ্ট বা হাত-পা খিচুনি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে রোগীকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।


খাবার স্যালাইন তৈরি করবেন কিভাবে


রোগীকে যে কয় ধরণের স্যালাইন খাওয়ানো যায় তার মধ্যে লবণ-গুড়ের স্যালাইন, প্যাকেট স্যালাইন (ওরাল স্যালাইন) এবং চালের গুঁড়োর স্যালাইন উল্লেখযোগ্য।

প্যাকেট স্যালাইন - বর্তমানে খাওয়ার স্যালাইন প্যাকেটে তৈরি অবস্থায় বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। প্যাকেটের নির্দেশ অনুসারে আধা কেজি পরিষ্কার/ ফুটানো ঠাণ্ডা খাওয়ার পানিতে এক প্যাকেটের সবটুকু গুড়া ভালোভাবে মিশিয়ে খাওয়ার স্যালাইন তৈরি করা যায়। এ স্যালাইন সাধারণত ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। রপর প্রয়োজন হলে পুনরায় স্যালাইন বানাতে হবে।

লবণ-গুড়ের স্যালাইন -  একটি পরিষ্কার পাত্রে আধাকেজি পরিষ্কার বা ফুটানো ঠাণ্ডা খাওয়ার পানির সাথে তিন আঙুলের (বৃদ্ধাআঙুল, তর্জনি ও মধ্যমার প্রথম ভাজ/দাগ পর্যন্ত) এক চিমটি লবণ এবং একমুঠ গুড় অথবা চিনি পরিষ্কার চামচ দিয়ে মিশাতে হবে। বাড়িতে বানানো এ স্যালাইন ৬ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়া যায়। এরপর প্রয়োজন হলে পুনরায় বানাতে হবে।

চালের গুঁড়ার স্যালাইন -  একটি পরিষ্কার পাত্রে চা চামচের ৫ চামচ চালের গুঁড়া নিন। চালের গুড়া না থাকলে একমুঠ চাল (আতপ হলে ভালো হয়) ১০/১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে তারপর পিষে নিন (বাড়িতে মসলা পেষার শিল-নোড়া ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে যেন ঝাল/মসলা না থাকে)। এবার চালের গুঁড়াকে আধা কেজি বিশুদ্ধ পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এখন আরো আধা কাপ বিশুদ্ধ পানি মেশান। চুলায় জ্বালানোর সময় বাষ্প হয়ে কিছুটা পানি কমে যাবে বিধায় এ বাড়তি পানি মেশাতে হবে। এবার চালের গুঁড়া মেশানো পানিকে চুলায় ৭ থেকে ১০ মিনিট গরম করুন দিন। গরম করার সময় অনবরত নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলেই অর্থাৎ বুদবুদ দেখা দিলেই পাত্রটি নামিয়ে ফেলুন। তারপর ঠাণ্ডা করে তিন আঙুলের (বৃদ্ধাঙুল, তর্জনি ও মধ্যমার প্রথম ভাজ/দাগ পর্যন্ত) এক চিমটি লবণ মেশাতে হবে। তৈরীকৃত এ চালের গুড়োর স্যালাইন ৮ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়া যাবে।  তারপর প্রয়োজনে পুনরায় স্যালাইন তৈরি করতে হবে। আজকাল ওষুধের দোকানগুলোতে প্যাকেটজাতকৃত রাইস স্যালাইন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লেখা নিয়মাবলী অনুযায়ী স্যালাইন তৈরি করতে হবে ও খাওয়াতে হবে।

ডায়রিয়া জনিত অসুখের কারণে শরীর হতে প্রচুর পারিমাণে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় এবং রোগী পানি শূন্যতায় (Dehydration) ভোগে। এরপর সঠিকমাত্রায় পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা না হলে রোগী মারাত্মক কিডনী জনিত অসুখের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। পরবর্তীতে যা জীবনের প্রতিও হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

 

মনে রাখা দরকার

ডায়রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা ঘরে বসে আয়োজন করা গেলেও যতদ্রুত যম্ভব রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ বাদে যেকোনো চিকিৎসা রোগীর জন্যে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

 

 


তথ্যসূত্র: International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDR,B)

সুস্থ থাকুক হৃদয়

HEALTHx

 

আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হৃদযন্ত্র। যতদিন হৃদপিণ্ড সচল আছে ততদিন আমরাও সুস্থ আছি; হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলেই বিপদ। তাই সমসময় চেষ্টা করতে হবে হৃদপিন্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে। আজকালকার দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া বা হৃৎযন্ত্রের সমস্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। তার কারণ যেমন জীবনধারা, দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা তেমনি হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণগুলি এড়িয়ে যাওয়া।


একটা সময় হৃদরোগকে সাধারণত বয়স্ক মানুষের রোগ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু আজকাল প্রায় সব বয়সী মানুষই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। তাই হৃদরোগের লক্ষণসমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের সবারই জেনে রাখা উচিত।

গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই হৃদরোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণেই মানুষ আজকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন বেশি। এর মধ্যে রয়েছে- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজন। বর্তমানে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ধরন হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই পরিস্থিতি প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কয়েকটি পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ জেনে নেওয়া ভালো। যার মাধ্যমে হৃদরোগের  প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে আগেভাগেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যায়।

 

হৃদরোগের লক্ষণসমূহ

  • বুকে ব্যাথা- হৃদযন্ত্রের সমস্যার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বুকের বাঁদিকে মাঝে মাঝেই ব্যথা হওয়া। অনেকে আছেন বুকে ব্যথা হলে গ্যাস থেকে এই ব্যথা হয়েছে বলে মনে করেন । ফলে সমস্য়া আরও বাড়ে। বুকে বা বাহুতে ব্যথা হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ। তবে শুধু বুকে ব্যথা হলেই হৃদরোগ বলা যায় না। বাহু, চোয়ালের পিছন দিক এবং গলায় চিনচিনে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় অনেকে বলে থাকেন বুকে জ্বালাপোড়া করার কথা। এমনটা হলে সাবধান হোন। কেননা এটিও হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। তাছাড়া বদহজম, বমিবমি ভাব, অনিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস হৃদরোগের উপসর্গ হতে পারে। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করে। অনেক সময় রোগী ঘামতে থাকে। এমনটা প্রবল শীতেও হতে পারে।
  • বেশিক্ষণ হাঁটতে না পারা - ৫ মিনিট হাঁটলেই কী আপনি ক্লান্ত হয়ে যান? শারীরিক কোনও কসরত করতে গেলেই মনে হয় এনার্জি শেষ? পায়ের শিরায় টান ধরে? এই সব লক্ষণই কিন্তু হৃদযন্ত্রের সমস্যার দিকে ইশারা করছে।
  • হাত-পা ফুলে যাওয়া -  পা বা হাত মাঝে মধ্যেই ফুলে যাচ্ছে? এটাও কিন্তু হৃদপিণ্ডের সমস্যার একটা লক্ষণ। হৃদপিন্ডের সাহায্যে স্বাভাবিক রক্তচালনায় বাধা পায় তাহলে তা ধমণীর মধ্যে জমতে থাকে এবং শরীরকে ফুলিয়ে দেয়।
  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন - অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে।

হৃদরোগ সবসময় হঠাৎ করে হবে এমনটা নয়। অনেক সময় হৃদরোগ ধীরে ধীরে মানুষের হৃদযন্ত্রকে ব্লক করে দেয়। এ ধরনের হৃদরোগকে ‘মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন’ বা হার্ট অ্যাটাক বলে। এ ক্ষেত্রে প্রবল অস্বস্তিকর অনুভূতিঅন্যতম লক্ষণ।


হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয়

  •  যদি কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তাহলে প্রথমেই জরুরি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে হবে। কারণ অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া কোনো চিকিৎসা করতে গেলে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়তে পারে।
  • হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন।
  • হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বাতাস চলাচলের রাস্তাগুলো সব উম্মুক্ত করে দিন। এটি রোগীকে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহায়তা করবে।
  •  হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন।
  • হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।
  • হার্ট অ্যাটাক ধারণা করলে  হৃৎপিণ্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বাজারে প্রচলিত ৩০০ মি.গ্রা. (অ্যাসপিরিন), ৩০০ মি.গ্রা. ক্লোপিডোগ্রেল, ৪০ মি.গ্রা. অ্যার্টভাস্টাটিন  এবং ৪০ মি.গ্রা. ওমিপ্রাজল খাইয়ে দ্রুত হৃদরোগ হাসপাতালে পৌঁছে দিন। সেখানে কার্ডিওলজিস্ট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনে জরুরি অ্যান্জিওপ্লাস্টি (urgent PTCA ) সহ অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

প্রতিকার

  • হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে  এর প্রতিকার সম্পর্কে জানা জরুরি, এবার জেনে নিন, কী করে হৃদরোগের প্রতিকার করা সম্ভব বা তা থেকে বাঁচার উপায়।
  • হৃদরোগের শত্রু হচ্ছে ধূমপান। তাই ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
  • ধূমপানের মতো মাদকও হৃদরোগের আরেকটি কারণ, তাই মাদককে না বলুন।
  • অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না। নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। ভালো থাকবেন।
  • মাঝে মাঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করে নিজেকে সুস্থ রাখুন।
  • প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খান।


ভালো অভ্যাসে সুস্থ হৃদযন্ত্র

ছোট্ট কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। সুস্থ রাখতে পারে শরীরের হৃদযন্ত্রকে। এর জন্য কিছু অভ্যাস ছাড়তে হবে, আবার কিছু সাদরে গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে বড় প্রয়োজন প্রতিজ্ঞা। সঠিক-স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম—এসব অভ্যাস নিজের পাশাপাশি সন্তান ও পরিজনদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।

ফুসফুসের জন্য যত্ন

HEALTHx

স্বাস্থ্যের কথা ভাবার সময়,  ফুসফুসের কথা খেয়াল রাখছেন কি?

কোভিড-১৯ এর এই সময়টাতে যখন আমরা স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় কিছুটা শিথিল হয়ে গেছি, তখন দেখা দিচ্ছে ভাইরাল ফ্লু এর মত আরো নানা রকমের ফ্লু। এই সময়ে ফুসফুসের যত্ন নেওয়াটা খুব বেশি জরুরি।

২৫ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বব্যাপী বিশ্ব ফুসফুস দিবস পালিত হয়। বিশ্ব ফুসফুস দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য Care for Your Lung বা ফুসফুসের জন্য যত্ন।

বিশ্ব ফুসফুস দিবসে আমরা চেষ্টা করব ফুসফুসের যত্ন নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করার যাতে করোনা মহামারির এই সময়ে আমরা আমাদের ফুসফুসকে সচল, সক্ষম ও সুস্থ রাখতে পারি এবং আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্যকে বজায় রাখতে পারি আরো ভালোভাবে।

চলুন দেখি নেই এমন ৫টি উপায় যা সুস্থ রাখবে আপনার ফুসফুসকে –

 

  • ধূমপান ত্যাগ - ধূমপান সিওপিডি, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণ। ধূমপান ফুসফুস বাদেও হার্ট, ব্রেইন এমনকি যৌনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধূমপান ত্যাগ - আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। যে কোন বয়সে ধূমপান ত্যাগ করলে তা আপনার ফুসফুসসহ সার্বিক স্বাস্থ্যের উপরই বেশ ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসে। ফুসফুস সুস্থ রাখতে হলে ধূমপান ছাড়ার বিকল্প নেই!
  • রুখতে হবে পরোক্ষ ধূমপান ও – পরোক্ষ ধূমপান একদম প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই মারাত্মক; এটিও সিওপিডি এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সহ দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।নিজে ধূমপান বাদ দেবার পাশাপাশি এড়িয়ে চলতে হবে সকল পরোক্ষ ধূমপান। এতে একেবারেই কমে যবে ফুসফুস  রোগের সকল ঝুঁকি!
  • দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা – পেশি সুস্থসবল রাখার জন্য দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা। শরীরের পাশাপাশি আপনার ফুসফুসেরও দরকার নিয়মিত উদ্দীপনা। এজন্যে নিয়মিত শরীরচর্চা বেশ জরুরি। শারীরিক ব্যায়াম আপনার ফুসফুসকে শক্তিশালী করে, ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আপনার ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
  • দরকার প্রকৃতির মুক্ত বাতাস – প্রতিদিন পরিস্কার ও নির্মল বাতাসে বেশ কিছু সময় থাকা আপনার ফুসফুস স্বাস্থ্যে নিয়ে আসতে পারে অভাবনীয় পরিবর্তন। সকালে শরীরচর্চা ও মর্নিং ওয়াক এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে অনেকটাই।
  • যথেষ্ট পরিমাণে পানি খাওয়া – অনেকেই ভাবতে পারেন, পানির সাথে ফুসফুসের সম্পর্ক কোথায়? সত্যি বলতে সম্পর্ক আছে এবং তা বেশ ভালোভাবেই। যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করলে তা ফুসফুসের মিউকাসকে বেশি ঘন হতে দেয়না যাতে ঠাণ্ডাজনিত্ত যেকোনো  সমস্যায় সর্দি এবং কাশির সমস্যাকে বেশিদূর বাড়তে দেয়না।  

 

এই পাঁচটি তো গেলো ফুসফুস ভালো রাখার অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে কয়েকটি। ফুসফুস ভালো রাখার জন্যে নিয়মিত ফুসফুস চেকাপ করানো জরুরি। এজন্যে ঠাণ্ডাসহ যেকোনো ফ্লু  জনিত সমস্যায় দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সুস্থ থাকুক আপনার ফুসফুস।

সেরিব্রাল পালসি । সুস্থ থাকুক প্রিয়জন

HEALTHx

 

সেরিব্রাল পালসি 

শারীরিক প্রতিবন্ধি বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধি এই শব্দ দুটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় শিশুর এই সমস্যাকেই সেরিব্রাল পালসি বলে। সেরিব্রাল ব্রেন এর আরেক নাম। আর পালসি মানে আংশিক বা পুরো অর্থাৎ সেরিব্রাল পালসি মানে শরীরের অংশ নাড়ানোর ক্ষমতা হারানো।
আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশের নাম সেরেব্রাম। সেরেব্রামের কাজ হলো বুদ্ধিমত্তা, বিচার শক্তি, মাংসপেশির ঐচ্ছিক কাজ করার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করা। যদি শিশু জন্মের আগে, জন্মের সময় বা জন্মের ২ বছরের মধ্যে কোন কারনে মস্তিষ্কের এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে শিশুর শারিরীক বা বুদ্ধি জনিত যে সমস্যা দেখা দেয়, তাকেই সেরেব্রাল পালসি বলে।
ব্রিটিশ ডাক্তার ড: জন লিটল সর্বপ্রথম এই রোগের আবিস্কার ও নামকরণ করে থাকেন। তাই, এই রোগকে লিটল ক্লাব রোগ ও বলা হয়ে থাকে।


কারণ সমূহ

সেরিব্রাল পালসির সঠিক কারণটি জানা যায়নি, তবে বাচ্চাদের জন্মের আগে মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা পাওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে-

# শিশুর মস্তিষ্কে ফোলা ও সমস্যা                                           # কোন  দুর্ঘটনার কারণে শিশুর মাথায়  আঘাত

# জরায়ুতে বিকাশমান ভ্রূণের সংক্রমণ                                 # মস্তিষ্কের বিকাশের পরিবর্তন

# শিশু বেলায় গুরুতর অসুস্থতার কারণে সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

#  গর্ভাবস্থায় কিছু সংক্রমণ যেমন রুবেলা, সিফিলিস, থাইরয়েড, চিকেনপক্সের সেরিব্রাল প্যালসির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অকাল জন্মগ্রহণকারী কিছু শিশু সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকিতে থাকতে পারে।


লক্ষণ সমূহ

সেরিব্রাল পালসির কিছু লক্ষণ রয়েছে। সব বাচ্চাদের লক্ষণ একরকম হয়না- 

# খাবার গ্রাস করতে সমস্যা অনুভব করা                      # কথা বলতে সমস্যা হওয়া

# পেশী কম বা বেশি প্রসারিত করতে পারা                   # ঝুঁকে চলা ও হাঁটা করা

# অতিরিক্ত লালাক্ষরণ হওয়া                                       # সাধারণ কাজ করতে অক্ষম হওয়া

# কাজকর্ম করতে ব্যথা অনুভব হওয়া                        # পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া

# কিছু ক্ষেত্রে শিশু সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যায়।

সেরিব্রাল পালসি অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে – প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, মুখ সম্পর্কিত সমস্যা, শ্রবণ সমস্যা , ঠিক মতো দেখতে না পাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা


প্রকারভেদ

এই রোগকে সাধারনত ৪ ভাগে ভাগ করা হয় -
# স্পাস্‌টিক             # অ্যথেটয়েড
# অ্যাটাক্‌জিক       # মিক্সড্


সেরিব্রাল পালসি বাচ্চাদের চিকিৎসা পদ্ধতি

উপরোক্ত বর্ণনার সাথে যদি আপনার বাচ্চার লক্ষণ মিলে যায়, তাহলে অতি দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, ঔষধ শিশুর খিচুনিসহ কিছু সমস্যা দূর করতে পারলেও তার শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। শিশুর শারিরীক বিভিন্ন সমস্যাগুলো দূর করে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।


সেরিব্রাল পালসি'র ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে কি ধরনের সেরিব্রাল পালসি হয়েছে এবং শারিরীক সমস্যা সমূহ নিরুপণ করে অত:পর রোগীর সমস্যানুযায়ী সেবা প্রদান করেন।


ঘরে বসেই অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা ফিজিওথেরাপি সেবা নেবার জন্যে ক্লিক করুন...


সেরিব্রাল পালসি কিভাবে এড়াবেন ?

সাধারণত সেরিব্রাল পালসি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কিছু ঝুঁকি রোধ করা যেতে পারে -

# গর্ভাবস্থাকালীন মহিলাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত, কারণ মা যদি সুস্থ থাকেন তবে বাচ্চাদের সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকি হ্রাস হতে পারে।

# ছোট বাচ্চারা যখন খেলাধুলা করে তখন বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত, যাতে কোনো বড় আঘাত মাথায় না লাগে।

# সেরিব্রাল পালসি ডিজঅর্ডার থেকে ভ্রূণের মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে রুবেলার  টিকা দিতে হবে।  


সর্বোপরি, সেরিব্রাল পালসি শিশুকে পরিবারের বা সমাজের অভিশাপ না ভেবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুর সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে বাবা-মা বা অভিভাবক সহ আমাদের সকলেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিৎ ।

 

সেরিব্রাল পালসিসহ যেকোনো নিউরোলজিকাল রোগে নিউরো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে ক্লিক করুন...