গর্ভাবস্থায় যেই ৭ টি কাজ করলে মা ও শিশু সুস্থ থাকবে

HEALTHx

 

একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দময় মুহুর্তের একটি হচ্ছে সন্তান জন্মদান।  সন্তান জন্মদানের জন্য নারীর প্রকৃতিপ্রদত্ত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ও প্রস্তুতিই হচ্ছে তার গর্ভাবস্থা।  প্রত্যেক গর্ভবতী মা-ই সুস্থ-স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা প্রত্যাশা করেন।  সুস্থ গর্ভাবস্থা মানে সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু।  এর জন্য গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়ম মেনে চলা অবশ্যই  প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা।

চলুন জেনে নেই এরকম ৭টি কাজ যা সুস্থ রাখবে মা ও শিশুকে।

) পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবারঃ এ সময়ে খাবারে থাকতে হবে একটু বাড়তি ক্যালরি। গর্ভাবস্থায় গর্ভে সন্তানের জন্যে প্রয়োজন হয় বাড়তি খাবার। খাবারের পরিমাণ বাড়ার কারণে যেন কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়, সেজন্যে খাবারে থাকতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ। খাবারের আঁশ বা মাইক্রোফাইভার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ। শাকসবজি, ফল-মূলে ভিটামিনের আদর্শ উৎস। এ সময়ে বেশি পরিমাণে মাছ খাওয়া ভালো। মাছে আছে ওমেগা ও ফ্যাটি এসিড, যা শিশুর বিকাশে সহায়ক। যথেষ্ট পানিও পান করতে হবে প্রতিদিন। 

) দরকার পরিমিত বিশ্রাম এবং ব্যায়ামঃ  ক্যালরি ইনটেক যেহেতু থাকে প্রচুর, এই সময়ে তাই একেবারে  একেবারে শুয়ে বসে থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি অনুচিত দিনভর খাটুনি। হালকা কাজের ফাঁকে চাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম। পাশাপাশি দরকার প্রতিদিন শরীরচর্চা। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় হাঁটা উচিত; সপ্তাহে পাঁচদিন।

পর্যাপ্ত ঘুম হতে হবেঃ গর্ভাবস্থায় ঘুম শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক। দিনে-রাতে মোট সাত-আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। দুপুরে খাওয়ার পর হালকা ঘুমানো ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম এই সময়ে হরমোনাল ব্যালান্স বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ক্ষতিকর জিনিসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবেঃ গর্ভাবস্থায় ধুমপান করলে গর্ভের সন্তান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে মারাত্মক পরিমাণে। পরোক্ষ ধুমপানেও একই ক্ষতির পরিমাণ কম হয় না। সুতরাং, এই সময়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধুমপান এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া এক্স-রে ও অন্যান্য বিকিরণ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এতে গর্ভস্থ শিশু শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে।

আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা ভালোঃ একজন প্রসূতি মায়ের জন্য সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পড়া ভালো। এতে ত্বক ও বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ থাকবে স্বাভাবিক। এ সময়ে হাই হিল জুতো স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্ল্যাট চটি জুতা ভালো। এতে মেরুদন্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে।

)  পরিহার করুণ প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া ঔষধঃ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে। তাই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবেনা। 

গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবাঃ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাকে ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ বলে।  মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য গর্ভবতী মায়ের ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ করাতে হবে নিয়মিত।  এ জন্য আদর্শ হচ্ছে, গর্ভাবস্থায় মোট ১৪ বার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স বা অন্য কোন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া।

 

গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পেতে ক্লিক করুন...

ডায়রিয়া হলে কি করবেন?

HEALTHx

 

 

ডায়রিয়া কী?


সাধারণত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩ বার বা তার থেকে বেশি পানির মত পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। এক্ষেত্রে তিনবারের কম হলে ভয়ের কিছু নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই ডায়রিয়া। প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৭০ কোটি শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয় এই ঘাতকব্যাধি।

ডায়রিয়ার কারণে শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে। সারা বিশ্বে ৭৮ কোটি মানুষ সুপেয় পানি পান করতে পারে না এবং প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খান ব্যবহার করতে পারে না। এজন্যে উন্নয়নশীল বিশ্বে ডায়রিয়ার প্রকোপ খুব বেশি হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৩ বছর বয়সী শিশুরা বছরে প্রায় ৩ বার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।

 

শিশু-কিশোরদের মধ্যে ডায়রিয়ার লক্ষণ

  • ঘণ ঘণ পিপাসা পাওয়া
  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম প্রস্রাব হওয়া। একটানা ৩ ঘন্টা বা তার বেশি সময় ধরে প্রস্রাব না হওয়া
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • মুখ শুষ্ক দেখানো
  • শিশুর কান্নার সময় চোখে পানি না থাকা
  • ত্বক কুচকে যাওয়া


পানিশূন্যতা


ডায়রিয়া হলে পায়খানা ও বমির পাশাপাশি মূত্র ও ঘামের সাথে শরীর থেকে electrolytes (সোডিয়াম, ক্লোরাইড, পটাশিয়াম এবং বাইকার্বনেট) বের হয়ে যায়। electrolytes এর ঘাটতি পূরণ না হলে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতা খুব বেশি হলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।

 

পানিশূন্যতার লক্ষণসমূহ

  • ঘণ ঘণ পিপাসা পাওয়া
  • মুখ, জিহ্বা ও গলা শুকিয়ে যাওয়া
  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম প্রস্রাব হয় অথবা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • গাঢ় বর্ণবিশিষ্ট প্রস্রাব হওয়া
  • ক্লান্ত বোধ হওয়া
  • চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চোখের কোটরে ঢুকে যাওয়া
  • শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস হয়, নাড়ি (Pulse) খুব দ্রুত এবং ক্ষীণ হয়ে যাওয়া
  • রোগী নিস্তেজ ও অসাড় হয়ে যায় এবং কখনো কখনো পেট ফুলে যাওয়া
  • ত্বকের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া বা কুচকে যাওয়া। রোগীর শরীরের চামড়া টেনে ছেড়ে দিলে দু-সেকেন্ডের মধ্যে যদি পূর্বের মতো না হয়ে কুচকে থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোগীর পানিশূন্যতা খুব বেশি।
  • চোখে ঝাপসা দেখা


ডায়রিয়া কেন হয়?


ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। মূলত জীবাণু সংক্রামিত হলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে-

  • ভাইরাসজনিত। যেমন : রোটা ভাইরাস, এস্ট্রো ভাইরাস, এডেনোভাইরাস ইত্যাদি।
  • ব্যাকটেরিয়াজনিত। যেমন : সালমোনেলা, শিগেলা, ই কলাই, ভিব্রিও কলেরি, ক্যামপাইলোব্যাকটর ইত্যাদি।
  • পরজীবীজনিত। যেমন : জিয়ারডিয়া, ক্রিপটোসপরিডিয়াম, সাইক্লোসপরা ইত্যাদি।
  • দূষিত পানি পানের মাধ্যমে ডায়রিয়া ছড়ায়।
  • দূষিত খাবার বা পঁচা-বাশি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে।
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে বা ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলেও ডায়রিয়া হতে পারে।
  • কিছু ওষুধ; যেমন, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ অ্যান্টাসিড, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, জোলাপ ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হওয়ার কারণ।
  • এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন - খাদ্য হজম না হওয়া, অন্ত্রের কৃমি ইত্যাদি।

এছাড়াও ভ্রমণের সময় অস্বাস্থ্য পরিবেশ হতে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে ডায়রিয়া হতে পারে।

 

ডায়রিয়া হলে কী করণীয়


ডায়রিয়া হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। পানিশূন্যতা তীব্র হলে তা  শিশু-কিশোরদের জন্য বেশ বিপদজনক হতে পারে। ডায়রিয়া হলে যথাযম্ভব দ্রুত কিছু ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যেমন - 

  • শরীর থেকে যতোটা লবণ ও পানি বেরিয়ে যাচ্ছে তা পূরণ করা। এজন্য রোগীকে বারে বারে খাবার স্যালাইনসহ তরল খাবার খাওয়ানো। এছাড়া যে কারণে ডায়রিয়া হয়েছে তার চিকিৎসা করা।
  • যতোবার পাতলা পায়খানা বা বমি হবে ততোবারই সমপরিমাণ খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ান।
  • রোগীকে স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।

 

শিশুদের ডায়রিয়া হলে করণীয়


শিশুর ডায়রিয়া হলে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাবার স্যালাইন খাওয়ান। এছাড়া শিশুদের মধ্যে নিম্নোক্ত উপসর্গগুলির দেখা গেলে সরাসরি একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ - 

  • ডায়রিয়া যদি ২ দিনের বেশি থাকা
  • বার-বার বমি হওয়া
  • ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ বার বা তার বেশি পায়খানা হওয়া
  • ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর থাকা
  • তলপেট বা মলদ্বারে গুরুতর ব্যাথা অনুভব করা
  • মলের সাথে যদি রক্ত বের হওয়া এবং মলের রং যদি কালো হওয়া
  • পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেওয়া


ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়

ডায়রিয়া কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করলেও কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে খুব সহজেই ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা যায়-  

  • শিশুদের জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো
  • সম্ভব হলে রোটা ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করা
  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা; বিশেষ করে সংক্রামক রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা
  • যদি ডাইরিয়া বা বমি শুরু হয় তাহলে তৎক্ষণাৎ খাবার স্যালাইন খাওয়া শুরু করা এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া
  • বাইরের খোলা, নোংরা ও বাসি খাবারদাবার পরিহার করা

 

পানিশূন্যতা কিভাবে পূরণ করা যায়


ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। ফলাফল হিসাবে, শরীরে দেখা দেয় পানি শূন্যতা। শরীরের পানিশূন্যতা মেটানোর জন্যে যথাসম্ভব দ্রুত দুটি পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে-

  • খাবার স্যালাইন খাওয়ানো।

  • রোগীর বেশি পানিশূন্যতা হলে অথবা খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরও যদি পানিশূন্যতা না কমে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিরার মধ্যে (ইন্ট্রাভেনাস) স্যালাইন দিয়ে পানিশূন্যতা পূরণ করতে হয়।

 

খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর নিয়ম


ডায়রিয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে দেরি হলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। পাতলা পায়খানা ও বমির পরিমাণ মোটামুটি আন্দাজ করে কমপক্ষে সেই পরিমাণ স্যালাইন খাওয়াতে উচিত।
ডায়রিয়া হলে যেহেতু বমির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে বমি হলেও স্যালাইন খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। অনেক সময় স্যালাইন খওয়া মাত্রই বমি হতে পারে। এক্ষেত্রে অল্প অল্প পরিমাণে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
যতোদিন পর্যন্ত পাতলা পায়খানা চলতে থাকবে ততোদিন পর্যন্ত স্যালাইন খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। তবে ২ দিনের বেশি ডায়রিয়া হলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।
শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে চামচ দিয়ে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। তবে শিশুকে শোয়ানো অবস্থায় পানি, দুধ বা স্যালাইন খাওয়ানো যাবে না। শিশুকে কোলে নিয়ে অথবা মাথা কিছুটা উচু করে খাওয়াতে হবে।
বাজার হতে প্যাকেট স্যালাইন কিনে স্যালাইন তৈরি করলে তা ১২ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যায়। এক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী স্যালাইন বানাতে হবে ও খাওয়াতে হবে। তবে বাড়িতে তৈরিকৃত স্যালাইন মাত্র ৬ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যায়।
স্যালাইন খাওয়ানোর পরও যদি রোগীর অবস্থা খারাপ হয়, যেমন পেট ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, নিস্তেজ হয়ে পড়া, শ্বাস কষ্ট বা হাত-পা খিচুনি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে রোগীকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।


খাবার স্যালাইন তৈরি করবেন কিভাবে


রোগীকে যে কয় ধরণের স্যালাইন খাওয়ানো যায় তার মধ্যে লবণ-গুড়ের স্যালাইন, প্যাকেট স্যালাইন (ওরাল স্যালাইন) এবং চালের গুঁড়োর স্যালাইন উল্লেখযোগ্য।

প্যাকেট স্যালাইন - বর্তমানে খাওয়ার স্যালাইন প্যাকেটে তৈরি অবস্থায় বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। প্যাকেটের নির্দেশ অনুসারে আধা কেজি পরিষ্কার/ ফুটানো ঠাণ্ডা খাওয়ার পানিতে এক প্যাকেটের সবটুকু গুড়া ভালোভাবে মিশিয়ে খাওয়ার স্যালাইন তৈরি করা যায়। এ স্যালাইন সাধারণত ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। রপর প্রয়োজন হলে পুনরায় স্যালাইন বানাতে হবে।

লবণ-গুড়ের স্যালাইন -  একটি পরিষ্কার পাত্রে আধাকেজি পরিষ্কার বা ফুটানো ঠাণ্ডা খাওয়ার পানির সাথে তিন আঙুলের (বৃদ্ধাআঙুল, তর্জনি ও মধ্যমার প্রথম ভাজ/দাগ পর্যন্ত) এক চিমটি লবণ এবং একমুঠ গুড় অথবা চিনি পরিষ্কার চামচ দিয়ে মিশাতে হবে। বাড়িতে বানানো এ স্যালাইন ৬ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়া যায়। এরপর প্রয়োজন হলে পুনরায় বানাতে হবে।

চালের গুঁড়ার স্যালাইন -  একটি পরিষ্কার পাত্রে চা চামচের ৫ চামচ চালের গুঁড়া নিন। চালের গুড়া না থাকলে একমুঠ চাল (আতপ হলে ভালো হয়) ১০/১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে তারপর পিষে নিন (বাড়িতে মসলা পেষার শিল-নোড়া ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে যেন ঝাল/মসলা না থাকে)। এবার চালের গুঁড়াকে আধা কেজি বিশুদ্ধ পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এখন আরো আধা কাপ বিশুদ্ধ পানি মেশান। চুলায় জ্বালানোর সময় বাষ্প হয়ে কিছুটা পানি কমে যাবে বিধায় এ বাড়তি পানি মেশাতে হবে। এবার চালের গুঁড়া মেশানো পানিকে চুলায় ৭ থেকে ১০ মিনিট গরম করুন দিন। গরম করার সময় অনবরত নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলেই অর্থাৎ বুদবুদ দেখা দিলেই পাত্রটি নামিয়ে ফেলুন। তারপর ঠাণ্ডা করে তিন আঙুলের (বৃদ্ধাঙুল, তর্জনি ও মধ্যমার প্রথম ভাজ/দাগ পর্যন্ত) এক চিমটি লবণ মেশাতে হবে। তৈরীকৃত এ চালের গুড়োর স্যালাইন ৮ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়া যাবে।  তারপর প্রয়োজনে পুনরায় স্যালাইন তৈরি করতে হবে। আজকাল ওষুধের দোকানগুলোতে প্যাকেটজাতকৃত রাইস স্যালাইন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লেখা নিয়মাবলী অনুযায়ী স্যালাইন তৈরি করতে হবে ও খাওয়াতে হবে।

ডায়রিয়া জনিত অসুখের কারণে শরীর হতে প্রচুর পারিমাণে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় এবং রোগী পানি শূন্যতায় (Dehydration) ভোগে। এরপর সঠিকমাত্রায় পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা না হলে রোগী মারাত্মক কিডনী জনিত অসুখের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। পরবর্তীতে যা জীবনের প্রতিও হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

 

মনে রাখা দরকার

ডায়রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা ঘরে বসে আয়োজন করা গেলেও যতদ্রুত যম্ভব রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ বাদে যেকোনো চিকিৎসা রোগীর জন্যে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

 

 


তথ্যসূত্র: International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDR,B)

সুস্থ থাকুক হৃদয়

HEALTHx

 

আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হৃদযন্ত্র। যতদিন হৃদপিণ্ড সচল আছে ততদিন আমরাও সুস্থ আছি; হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলেই বিপদ। তাই সমসময় চেষ্টা করতে হবে হৃদপিন্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে। আজকালকার দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া বা হৃৎযন্ত্রের সমস্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। তার কারণ যেমন জীবনধারা, দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা তেমনি হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণগুলি এড়িয়ে যাওয়া।


একটা সময় হৃদরোগকে সাধারণত বয়স্ক মানুষের রোগ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু আজকাল প্রায় সব বয়সী মানুষই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। তাই হৃদরোগের লক্ষণসমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের সবারই জেনে রাখা উচিত।

গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই হৃদরোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণেই মানুষ আজকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন বেশি। এর মধ্যে রয়েছে- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজন। বর্তমানে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ধরন হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই পরিস্থিতি প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কয়েকটি পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ জেনে নেওয়া ভালো। যার মাধ্যমে হৃদরোগের  প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে আগেভাগেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যায়।

 

হৃদরোগের লক্ষণসমূহ

  • বুকে ব্যাথা- হৃদযন্ত্রের সমস্যার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বুকের বাঁদিকে মাঝে মাঝেই ব্যথা হওয়া। অনেকে আছেন বুকে ব্যথা হলে গ্যাস থেকে এই ব্যথা হয়েছে বলে মনে করেন । ফলে সমস্য়া আরও বাড়ে। বুকে বা বাহুতে ব্যথা হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ। তবে শুধু বুকে ব্যথা হলেই হৃদরোগ বলা যায় না। বাহু, চোয়ালের পিছন দিক এবং গলায় চিনচিনে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় অনেকে বলে থাকেন বুকে জ্বালাপোড়া করার কথা। এমনটা হলে সাবধান হোন। কেননা এটিও হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। তাছাড়া বদহজম, বমিবমি ভাব, অনিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস হৃদরোগের উপসর্গ হতে পারে। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করে। অনেক সময় রোগী ঘামতে থাকে। এমনটা প্রবল শীতেও হতে পারে।
  • বেশিক্ষণ হাঁটতে না পারা - ৫ মিনিট হাঁটলেই কী আপনি ক্লান্ত হয়ে যান? শারীরিক কোনও কসরত করতে গেলেই মনে হয় এনার্জি শেষ? পায়ের শিরায় টান ধরে? এই সব লক্ষণই কিন্তু হৃদযন্ত্রের সমস্যার দিকে ইশারা করছে।
  • হাত-পা ফুলে যাওয়া -  পা বা হাত মাঝে মধ্যেই ফুলে যাচ্ছে? এটাও কিন্তু হৃদপিণ্ডের সমস্যার একটা লক্ষণ। হৃদপিন্ডের সাহায্যে স্বাভাবিক রক্তচালনায় বাধা পায় তাহলে তা ধমণীর মধ্যে জমতে থাকে এবং শরীরকে ফুলিয়ে দেয়।
  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন - অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে।

হৃদরোগ সবসময় হঠাৎ করে হবে এমনটা নয়। অনেক সময় হৃদরোগ ধীরে ধীরে মানুষের হৃদযন্ত্রকে ব্লক করে দেয়। এ ধরনের হৃদরোগকে ‘মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন’ বা হার্ট অ্যাটাক বলে। এ ক্ষেত্রে প্রবল অস্বস্তিকর অনুভূতিঅন্যতম লক্ষণ।


হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয়

  •  যদি কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তাহলে প্রথমেই জরুরি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে হবে। কারণ অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া কোনো চিকিৎসা করতে গেলে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়তে পারে।
  • হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন।
  • হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বাতাস চলাচলের রাস্তাগুলো সব উম্মুক্ত করে দিন। এটি রোগীকে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহায়তা করবে।
  •  হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন।
  • হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।
  • হার্ট অ্যাটাক ধারণা করলে  হৃৎপিণ্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বাজারে প্রচলিত ৩০০ মি.গ্রা. (অ্যাসপিরিন), ৩০০ মি.গ্রা. ক্লোপিডোগ্রেল, ৪০ মি.গ্রা. অ্যার্টভাস্টাটিন  এবং ৪০ মি.গ্রা. ওমিপ্রাজল খাইয়ে দ্রুত হৃদরোগ হাসপাতালে পৌঁছে দিন। সেখানে কার্ডিওলজিস্ট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনে জরুরি অ্যান্জিওপ্লাস্টি (urgent PTCA ) সহ অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

প্রতিকার

  • হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে  এর প্রতিকার সম্পর্কে জানা জরুরি, এবার জেনে নিন, কী করে হৃদরোগের প্রতিকার করা সম্ভব বা তা থেকে বাঁচার উপায়।
  • হৃদরোগের শত্রু হচ্ছে ধূমপান। তাই ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
  • ধূমপানের মতো মাদকও হৃদরোগের আরেকটি কারণ, তাই মাদককে না বলুন।
  • অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না। নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। ভালো থাকবেন।
  • মাঝে মাঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করে নিজেকে সুস্থ রাখুন।
  • প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খান।


ভালো অভ্যাসে সুস্থ হৃদযন্ত্র

ছোট্ট কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। সুস্থ রাখতে পারে শরীরের হৃদযন্ত্রকে। এর জন্য কিছু অভ্যাস ছাড়তে হবে, আবার কিছু সাদরে গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে বড় প্রয়োজন প্রতিজ্ঞা। সঠিক-স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম—এসব অভ্যাস নিজের পাশাপাশি সন্তান ও পরিজনদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।

ফুসফুসের জন্য যত্ন

HEALTHx

স্বাস্থ্যের কথা ভাবার সময়,  ফুসফুসের কথা খেয়াল রাখছেন কি?

কোভিড-১৯ এর এই সময়টাতে যখন আমরা স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় কিছুটা শিথিল হয়ে গেছি, তখন দেখা দিচ্ছে ভাইরাল ফ্লু এর মত আরো নানা রকমের ফ্লু। এই সময়ে ফুসফুসের যত্ন নেওয়াটা খুব বেশি জরুরি।

২৫ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বব্যাপী বিশ্ব ফুসফুস দিবস পালিত হয়। বিশ্ব ফুসফুস দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য Care for Your Lung বা ফুসফুসের জন্য যত্ন।

বিশ্ব ফুসফুস দিবসে আমরা চেষ্টা করব ফুসফুসের যত্ন নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করার যাতে করোনা মহামারির এই সময়ে আমরা আমাদের ফুসফুসকে সচল, সক্ষম ও সুস্থ রাখতে পারি এবং আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্যকে বজায় রাখতে পারি আরো ভালোভাবে।

চলুন দেখি নেই এমন ৫টি উপায় যা সুস্থ রাখবে আপনার ফুসফুসকে –

 

  • ধূমপান ত্যাগ - ধূমপান সিওপিডি, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণ। ধূমপান ফুসফুস বাদেও হার্ট, ব্রেইন এমনকি যৌনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধূমপান ত্যাগ - আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। যে কোন বয়সে ধূমপান ত্যাগ করলে তা আপনার ফুসফুসসহ সার্বিক স্বাস্থ্যের উপরই বেশ ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসে। ফুসফুস সুস্থ রাখতে হলে ধূমপান ছাড়ার বিকল্প নেই!
  • রুখতে হবে পরোক্ষ ধূমপান ও – পরোক্ষ ধূমপান একদম প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই মারাত্মক; এটিও সিওপিডি এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সহ দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।নিজে ধূমপান বাদ দেবার পাশাপাশি এড়িয়ে চলতে হবে সকল পরোক্ষ ধূমপান। এতে একেবারেই কমে যবে ফুসফুস  রোগের সকল ঝুঁকি!
  • দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা – পেশি সুস্থসবল রাখার জন্য দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা। শরীরের পাশাপাশি আপনার ফুসফুসেরও দরকার নিয়মিত উদ্দীপনা। এজন্যে নিয়মিত শরীরচর্চা বেশ জরুরি। শারীরিক ব্যায়াম আপনার ফুসফুসকে শক্তিশালী করে, ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আপনার ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
  • দরকার প্রকৃতির মুক্ত বাতাস – প্রতিদিন পরিস্কার ও নির্মল বাতাসে বেশ কিছু সময় থাকা আপনার ফুসফুস স্বাস্থ্যে নিয়ে আসতে পারে অভাবনীয় পরিবর্তন। সকালে শরীরচর্চা ও মর্নিং ওয়াক এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে অনেকটাই।
  • যথেষ্ট পরিমাণে পানি খাওয়া – অনেকেই ভাবতে পারেন, পানির সাথে ফুসফুসের সম্পর্ক কোথায়? সত্যি বলতে সম্পর্ক আছে এবং তা বেশ ভালোভাবেই। যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করলে তা ফুসফুসের মিউকাসকে বেশি ঘন হতে দেয়না যাতে ঠাণ্ডাজনিত্ত যেকোনো  সমস্যায় সর্দি এবং কাশির সমস্যাকে বেশিদূর বাড়তে দেয়না।  

 

এই পাঁচটি তো গেলো ফুসফুস ভালো রাখার অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে কয়েকটি। ফুসফুস ভালো রাখার জন্যে নিয়মিত ফুসফুস চেকাপ করানো জরুরি। এজন্যে ঠাণ্ডাসহ যেকোনো ফ্লু  জনিত সমস্যায় দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সুস্থ থাকুক আপনার ফুসফুস।

সেরিব্রাল পালসি । সুস্থ থাকুক প্রিয়জন

HEALTHx

 

সেরিব্রাল পালসি 

শারীরিক প্রতিবন্ধি বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধি এই শব্দ দুটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় শিশুর এই সমস্যাকেই সেরিব্রাল পালসি বলে। সেরিব্রাল ব্রেন এর আরেক নাম। আর পালসি মানে আংশিক বা পুরো অর্থাৎ সেরিব্রাল পালসি মানে শরীরের অংশ নাড়ানোর ক্ষমতা হারানো।
আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশের নাম সেরেব্রাম। সেরেব্রামের কাজ হলো বুদ্ধিমত্তা, বিচার শক্তি, মাংসপেশির ঐচ্ছিক কাজ করার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করা। যদি শিশু জন্মের আগে, জন্মের সময় বা জন্মের ২ বছরের মধ্যে কোন কারনে মস্তিষ্কের এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে শিশুর শারিরীক বা বুদ্ধি জনিত যে সমস্যা দেখা দেয়, তাকেই সেরেব্রাল পালসি বলে।
ব্রিটিশ ডাক্তার ড: জন লিটল সর্বপ্রথম এই রোগের আবিস্কার ও নামকরণ করে থাকেন। তাই, এই রোগকে লিটল ক্লাব রোগ ও বলা হয়ে থাকে।


কারণ সমূহ

সেরিব্রাল পালসির সঠিক কারণটি জানা যায়নি, তবে বাচ্চাদের জন্মের আগে মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা পাওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে-

# শিশুর মস্তিষ্কে ফোলা ও সমস্যা                                           # কোন  দুর্ঘটনার কারণে শিশুর মাথায়  আঘাত

# জরায়ুতে বিকাশমান ভ্রূণের সংক্রমণ                                 # মস্তিষ্কের বিকাশের পরিবর্তন

# শিশু বেলায় গুরুতর অসুস্থতার কারণে সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

#  গর্ভাবস্থায় কিছু সংক্রমণ যেমন রুবেলা, সিফিলিস, থাইরয়েড, চিকেনপক্সের সেরিব্রাল প্যালসির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অকাল জন্মগ্রহণকারী কিছু শিশু সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকিতে থাকতে পারে।


লক্ষণ সমূহ

সেরিব্রাল পালসির কিছু লক্ষণ রয়েছে। সব বাচ্চাদের লক্ষণ একরকম হয়না- 

# খাবার গ্রাস করতে সমস্যা অনুভব করা                      # কথা বলতে সমস্যা হওয়া

# পেশী কম বা বেশি প্রসারিত করতে পারা                   # ঝুঁকে চলা ও হাঁটা করা

# অতিরিক্ত লালাক্ষরণ হওয়া                                       # সাধারণ কাজ করতে অক্ষম হওয়া

# কাজকর্ম করতে ব্যথা অনুভব হওয়া                        # পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া

# কিছু ক্ষেত্রে শিশু সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যায়।

সেরিব্রাল পালসি অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে – প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, মুখ সম্পর্কিত সমস্যা, শ্রবণ সমস্যা , ঠিক মতো দেখতে না পাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা


প্রকারভেদ

এই রোগকে সাধারনত ৪ ভাগে ভাগ করা হয় -
# স্পাস্‌টিক             # অ্যথেটয়েড
# অ্যাটাক্‌জিক       # মিক্সড্


সেরিব্রাল পালসি বাচ্চাদের চিকিৎসা পদ্ধতি

উপরোক্ত বর্ণনার সাথে যদি আপনার বাচ্চার লক্ষণ মিলে যায়, তাহলে অতি দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, ঔষধ শিশুর খিচুনিসহ কিছু সমস্যা দূর করতে পারলেও তার শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। শিশুর শারিরীক বিভিন্ন সমস্যাগুলো দূর করে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।


সেরিব্রাল পালসি'র ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে কি ধরনের সেরিব্রাল পালসি হয়েছে এবং শারিরীক সমস্যা সমূহ নিরুপণ করে অত:পর রোগীর সমস্যানুযায়ী সেবা প্রদান করেন।


ঘরে বসেই অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা ফিজিওথেরাপি সেবা নেবার জন্যে ক্লিক করুন...


সেরিব্রাল পালসি কিভাবে এড়াবেন ?

সাধারণত সেরিব্রাল পালসি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কিছু ঝুঁকি রোধ করা যেতে পারে -

# গর্ভাবস্থাকালীন মহিলাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত, কারণ মা যদি সুস্থ থাকেন তবে বাচ্চাদের সেরিব্রাল পালসির ঝুঁকি হ্রাস হতে পারে।

# ছোট বাচ্চারা যখন খেলাধুলা করে তখন বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত, যাতে কোনো বড় আঘাত মাথায় না লাগে।

# সেরিব্রাল পালসি ডিজঅর্ডার থেকে ভ্রূণের মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে রুবেলার  টিকা দিতে হবে।  


সর্বোপরি, সেরিব্রাল পালসি শিশুকে পরিবারের বা সমাজের অভিশাপ না ভেবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুর সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে বাবা-মা বা অভিভাবক সহ আমাদের সকলেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিৎ ।

 

সেরিব্রাল পালসিসহ যেকোনো নিউরোলজিকাল রোগে নিউরো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে ক্লিক করুন...

 

সোরিয়াসিস । কি, কেন, কিভাবে?

HEALTHx

 

 

সোরিয়াসিস ত্বকের একটি প্রদাহজনিত রোগ। এটি একটি জটিল রোগ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো বয়সীরা এ রোগে আক্তান্ত হতে পারে। তবে ত্রিশোর্ধ্বরা বেশি আক্রান্ত হয়। এটি সংক্রামক রোগ নয়, কাজেই সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না। মানুষের ত্বকের কোষস্তর প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিসে এই কোষ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। যেমন ত্বকের সবচেয়ে গভীরের স্তর থেকে নতুন কেরাটিনোসাইট কোষ ওপরের স্তরে আসতে স্বাভাবিকভাবে সময় নেয় ২৮ দিন, আর এ ক্ষেত্রে তা পাঁচ থেকে সাত দিন। কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার জায়গাজুড়ে এই সমস্যা দেখা দেয়। পৃথিবীতে ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। 

সংক্রমণের স্থান

সোরিয়াসিস কেবল ত্বক নয়, আক্রমণ করতে পারে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও। সাধারণত কনুই, হাঁটু, মাথা, হাত ও পায়ের নখ আক্রান্ত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে মাথার ত্বক আক্রান্ত হতে পারে এবং হাতের নখের রঙ নষ্ট হয়ে যায় এবং গর্ত হয়ে যায়।


কারণ

  • এ রোগের মূল কারণ এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
  • তবে বংশে কারো থাকলে হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • বারবার গলায় ইনফেকশন, সূর্যের আলো, কোন কোন ঔষধ, মানসিক চাপ, শারীরিক আঘাত ইত্যাদি কারণে সোরিয়াসিস বাড়তে পারে।
  • সোরিয়াসিস কোন প্রকার সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়।


কোন বয়সে রোগ হয়?

ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে ৭০ বৎসর পর্যন্ত যে কোন নারী বা পুরুষের এই রোগ হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়।

এই রোগ কি খুব মারাত্মক?

  • সোরিয়াসিস কোন মারাত্মক জীবনঘাতি রোগ নয়। তবে এই রোগের তীব্রতা বিভিন্ন রকম হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ত্বকে কয়েকটি আঁশ যুক্ত ছোপ দেখা যায়।
  • এই রোগে নখ এবং গিঁট আক্রান্ত হতে পারে। কদাচিৎ বিভিন্ন কারণে সারা গায়ে তীব্র আকারে প্রকাশ পেতে পারে।
  • বর্তমানে এই রোগের উপসর্গ নিরাময়ে বিভিন্ন উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।

সোরিয়াসিস কি নিরাময়যোগ্য ব্যাধি?

নাএখন পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ নয়। এই রোগ সেরে যাওয়ার পর আবারও হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উপসর্গ বা লক্ষণ গুলো কমিয়ে রাখা সম্ভব। আর যে কারণে এই রোগ বাড়ন্ত বা শুরু হয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে সরিয়ে বা দমিয়ে রাখতে পারলে, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা সম্ভব।

খাবার বিধি নিষেধ আছে কি?

হ্যা, কিছু কিছু খাদ্য সোরিয়াসিসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যেমন গরু, খাসি, লালমাংস, টক জাতীয় ফল, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও মশলা যুক্ত খাবার, সকল প্রকার ফাস্টফুড, ধুমপান, মদ্যপান এবং জর্দা। এ গুলো সম্পূর্ণ ভাবে বর্জন করতে হবে।

সোরিয়াসিস রোগীর উপকারী খাবার:

সামুদ্রিক মাছ, মিষ্টি আলু, ব্রকলি, শাক, বাধাকপি।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান
সোরিয়াসিস এড়াতে একটি ভালো ডায়েট খুব গুরুত্বপূর্ণ। জলের মাছ, বাদাম এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডগুলির প্রদাহ হ্রাস করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় ত্বকে জলপাই তেল অর্থাৎ অলিভ অয়েল প্রয়োগ করা উপকারী।

মানসিক চাপ কমান
সোরিয়াসিসের মতো যে কোনও সমস্যা স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপ আরও খারাপ করতে পারে। তাই যতটা সম্ভব স্ট্রেস মুক্ত থাকুন। এই জন্য, যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের মতো অনুশীলনগুলি খুব কার্যকর প্রমাণিত হবে।

থেরাপি
সিরোসিস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য থেরাপি সবচেয়ে ভাল। এই থেরাপিটি দ্রুত রোগ থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহৃত হয়। এতে চিকিত্সকরা রোগীর ত্বকে প্যারাবোলিক রশ্মি প্রয়োগ করেন। এই আলো ত্বকের কোষের বৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়। মনে রাখবেন, হালকা থেরাপি সর্বদা একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

ত্বক শুকিয়ে যাওয়া রোধ করুন
সোরিয়াসিস এড়ানোর জন্য, আপনার ত্বককে শুকতে না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি বা অফিসে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সংবেদনশীল ত্বকের সাথে তাদের ত্বক নরম রাখার একটি দুর্দান্ত উপায় ময়েশ্চারাইজার।

রোগীর জন্য উপদেশ:

  • শুস্ক ত্বকে সোরিয়াসিস বৃদ্ধি পায়, ত্বক কে আদ্র রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
  • মাত্রাতিরিক্ত সূর্যালোক হতে সাবধান থাকবেন, তবে স্বল্প সময়ের জন্য সোরিয়াসিস আক্রান্ত ত্বক সূর্যালোকে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
  • গোসলের সময় ত্বক বেশি ঘসাঘসি করবেন না।
  • দুশ্চিন্তা, রাগ, মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন।
  • প্রেসক্রিপশন অনুসারে নিয়মিত ঔষধ সেবন করবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ঔষধ বন্ধ করবেন না। কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

 

স্ট্রোক সম্পর্কে জানুন ও সচেতন হোন

HEALTHx

 

 

জানুন স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনিটেই বাঁচিয়ে দিন বহু জীবন।' ‘প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান’

প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ ২৯ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস।

আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে স্ট্রোক হৃৎপিণ্ডের একটি রোগ। বাস্তবে এটি মোটেই সত্য নয়। স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালির দুর্ঘটনাকেই স্ট্রোক বলা যায়। এই দুর্ঘটনায় রক্তনালি বন্ধও হতে পারে, আবার ফেটেও যেতে পারে। এ কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। স্ট্রোক সম্পূর্ণই মস্তিষ্কের রক্তনালির জটিলতাজনিত রোগ। 

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে স্ট্রোক সংঘটিত হয়। বিশেষ করে রক্তনালী বন্ধ হয়ে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে মস্তিষ্কে এই রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। রক্তে থাকে অক্সিজেন আর পুষ্টিগুণ। ফলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো মারা যায়। স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ হলো উচ্চরক্তচাপ।

সারাবিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক।
বাংলাদেশে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক।

বাংলাদেশে বর্তমানে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ লোক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ভুগছে। প্রতি ১ হাজারে আক্রান্ত হচ্ছে অন্তত ১০ জন।

বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৬ কোটি এবং মারা যাচ্ছে ২ কোটি মানুষ। স্ট্রোকের কারণে দেড় কোটি লোক পঙ্গু হচ্ছে। প্রতি ৬ জনে ১ জনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে। স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ ভাগ মারা যায়, আর ৩০ ভাগ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারা বেঁচে থেকেও দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন। স্ট্রোকে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবেই এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী রয়েছে।

স্ট্রোক ৩ ধরনের। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক। মাইল্ড স্ট্রোকে রোগীর মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সাময়িক বন্ধ হয়ে আবারও চালু হয়। ইসকেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ও শরীরের অন্যান্য স্থানের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধে। হেমোরেজিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে যায়।

স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ 

  • শরীরের কোথাও বা একাংশ অবশ ভাব লাগা কিংবা দুর্বল বোধ করা বা প্যারালাইসিস। পা, হাত, মুখ অথবা শরীরের ডান বা বাম অংশ অবশ হয়ে যাওয়া, পা দুটিতে দুর্বল বোধ করা।
  • চলাফেরা করতে না পারা, চলাফেরায় ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রমে অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়া।
  • কথা বলতে সমস্যা হওয়া, বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পতিত হওয়া, কথা জড়িয়ে আসা, অস্পষ্ট হওয়া এবং একেবারে কথা বলতে বা বুঝতে না পারা।
  • এক চোখ বা দুই চোখেই ক্ষণস্থায়ী ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি ঘোলা লাগা বা একেবারেই না দেখা।
  • হঠাত্ তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘোরা, হঠাত্ করে কিছুক্ষণের জন্য হতবিহবল হয়ে পড়া, বমি বমি বোধ অথবা বমি করা।
  • স্ট্রোকের মারাত্মক উপসর্গ হচ্ছে অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি, তিব্র মাথাব্যথা ও বমি।

 

 

মুখের কোনো অংশ অবশ হয়ে পড়তে পারে, এক হাত বা এক পায়ে বোধশক্তি কমে যাওয়া কিংবা এক হাত বা এক পা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অসংলগ্ন কথা ও আচরণ, এমনকি চেতনা হারালেও স্ট্রোকের কথা ভাবতে হবে। হঠাৎ করে কেউ লিখতে পারছেন না, ডান-বাঁ বুঝতে পারছেন না, হঠাৎ সাধারণ গণনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলে সাবধান হতে হবে।


যেসব কারণ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে

  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড়ো কারণ। রক্তচাপের রোগী যারা নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করে না বা কয়েক দিন খেয়ে প্রেশার কমে গেলে ওষুধ বন্ধ করে দেয় বা মনে করে উচ্চরক্তচাপে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তাই রক্তচাপের ওষুধ সেবন করে না।
  • ধূমপান, তামাকপাতা, গুল, জর্দা, মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবন।
  • অতিরিক্ত টেনশন, হূদেরাগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি বা অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতি।
  • অনিয়ন্ত্রিত অলস জীবন যাপন করা, বেশি বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ এবং অধিক পরিমাণে লবণ খাওয়া।
  • যে কোনো ধরনের প্রদাহ অথবা ইনফেকশন এবং জন্মগতভাবে ব্রেনে কিংবা মস্তিষ্কে সরু রক্তনালি থাকা।
  • অনেক সময় বংশানুক্রমে বা পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও দূরবর্তী রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে


আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। স্ট্রোক হয়ে গেলে চিকিত্সা অত্যন্ত জটিল। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিত্সা করা হয়। যদি খেতে না পারে, তবে নাকে নল দিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রস্রাব ও পায়খানা যাতে নিয়মিত হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যাথেটার দিতে হবে। চোখ, মুখ ও ত্বকের যত্ন নিতে হবে। বেডসোর প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত পাশ ফেরাতে হবে।উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি অনেক স্ট্রোক রোগীর হার্টের রোগ থাকে। এসব ক্ষেত্রে কারডিওলজিস্টের পরামর্শের প্রয়োজন হয়। অন্যান্য চিকিত্সা স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী করা হয়। যেমন ইশকেমিক স্ট্রোকের বেলায় এসপিরিন, ক্লোপিডগ্রিলজাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।সব হাসপাতালেই থাকা উচিত একটি স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট; যেখানে ডাক্তার, নার্স, থেরাপিস্ট ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীর চিকিত্সা দেবেন।

একজন স্ট্রোক রোগীর প্রয়োজন হয় নিউরোলজিস্ট ও নিউরোসার্জনের। অনেক স্ট্রোক রোগীর অপারেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।অনেক রোগীর শ্বাসকষ্ট, বেডসোর প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং রেসপিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট, প্লাস্টিক সার্জনসহ সবার সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।রোগীর অঙ্গ সঞ্চালন করে জড়তা কাটিয়ে তুলতে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসনের জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট প্রয়োজন হয়। রোগী কথা বলতে না পারলে প্রয়োজন স্পিচ থেরাপিস্টের।

যেভাবে প্রতিরোধ সম্ভব

 

  • স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য রোগ, চিকিত্সার চেয়ে এই রোগ প্রতিরোধই উত্তম। ব্রেনের কোষগুলো একবার নষ্ট হলে পুনরায় পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয় না অথবা জন্মায় না। এর জন্য সুনির্দিষ্ট ও জরুরি চিকিত্সা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরের যে কোনো হাসপাতালে এ রোগের চিকিত্সা সম্ভব। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ধূমপান, মদ্যপান, মাদক দ্রব্য, তামাকপাতা ও জর্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃৎপিণ্ডের রোগের প্রয়োজনীয় চিকিত্সা নিতে হবে।
  • চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, শারীরিক ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে ওজন কমানো, খাদ্যে পশুর চর্বি ও অধিক পরিমাণ লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। ফাস্টফুড, বাদাম, সন্দেশ-রসগোল্লা, দুধ-ঘি-পোলাও-বিরিয়ানি, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া, গরু বা খাসির মাংস, নারকেল বা নারকেলযুক্ত খাবার ইত্যাদি কম খাওয়া উচিত।
  • শাকসবজি, অল্প ভাত, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া বাদে যে কোনো মাছ, বাচ্চা মুরগি ও ডিম খেলে কোনো ক্ষতি হয় না। নিয়মিত ব্যায়াম, সকাল-বিকাল হাঁটাচলা করতে হবে এবং অলস জীবনযাপন পরিহার করতে হবে। দুশ্চিন্তা বা টেনশনমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত ধর্মচর্চা এ ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

স্ট্রোক অবশ্যই একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে চিকিত্সা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। আক্রান্ত রোগী নিজে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, পরিবারের জন্য অনেক সময় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিরোধ করাই সর্বোত্তম।

সুস্থ থাকুক সবাই, আর নাহোক স্ট্রোক।

 

 

 

 

 

স্তন ক্যান্সার । নির্ণয়ে হোক প্রতিরোধ

HEALTHx


নারীদের ক্যান্সারের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ১ মিলিয়ন মহিলা সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারের আক্রান্ত হন। এক পরিসংখ্যানমতে, কেবল ২০১৮ সালে পৃথিবীতে ৬ লাখ ২৭ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারের মারা যান।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়লেও ইদানীং অল্প বয়সীদের মধ্যেও এ ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখন স্তন ক্যান্সারের হার বেড়েই চলেছে।

আমরা জানি, ক্যান্সার চিকিৎসার সাফল্য এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে রোগটি কোন পর্যায়ে নির্ণিত হচ্ছে তার ওপর। প্রাথমিক স্টেজে ধরা পড়লে এটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ রোগের লক্ষণগুলো জানা প্রত্যেক নারীর জন্যই আবশ্যক। আবার চিকিৎসার তুলনায় এই রোগের প্রতিরোধই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। তাই এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এমন বিষয়গুলো জেনে রাখাও জরুরি যাতে সেগুলো পরিহার করা সম্ভব হয়।

 

স্তন ক্যানসার কি?

আমাদের শরীরের যেকোনো স্থানের কোষগুলো যখন খুব দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন সেগুলো একটি অস্বাভাবিক চাকা বা পিণ্ড তৈরি করে। এ ধরনের চাকা বা পিণ্ডকে সাধারণ ভাষায় টিউমার বলা হয়। টিউমার দুই ধরনের হতে পারে, বেনাইন বা অক্ষতিকর এবং ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকর। বেশির ভাগ স্তন টিউমারই বেনাইন; মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যাকে আমরা ক্যানসার বলে থাকি।

 

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিগুলো

স্তন ক্যান্সারেরকারণ এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে যেগুলো ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। সেগুলো জেনে রাখা খুবই জরুরি। স্তন ক্যান্সারের অপরিবর্তনযোগ্য কারণগুলো:
১. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
২. জেনেটিক কারণে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে। BRCA1 এবং BRCA2 জিন মিউটেশনের ফলে স্তন ক্যান্সার হতে পারে।
৩. একই পরিবারের দুজন বা তার বেশি নিকটাত্মীয়ের স্তন ক্যান্সার থাকলে অথবা একই পরিবারের সদস্যদের স্তন বা ওভারিয়ান ক্যান্সারের থাকলে কিংবা ৪০ বছরের কম বয়সী একজন নিকটাত্মীয়ের স্তন ক্যান্সার থাকলে এই রোগের সম্ভাবনা বাড়ে।
৪. মহিলাদের যদি ঋতুস্রাব খুব অল্প বয়সে শুরু হয় এবং ঋতুস্রাব বন্ধ যদি খুব বেশি বয়সে হয়ে থাকে, তাহলে ইস্ট্রোজেন নামক হরমোনের সঙ্গে মহিলাদের সংস্পর্শ অনেক বেশি দিন ধরে হয়। তাই এ রোগের সম্ভাবনাও বাড়ে।
৫. পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৬. পূর্বে রেডিওথেরাপি পেয়ে থাকলে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে।
৭. তা ছাড়া যেসব নারীর এক স্থানে ক্যান্সার হয়েছে, তাঁদের অন্য স্থানে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।


স্তন ক্যান্সারের পরিবর্তনযোগ্য কারণগুলো

১. বেশি বয়স পর্যন্ত বিয়ে না করা এবং ৩০ বছর বয়সের পর নারীদের প্রথম সন্তানের মা হওয়া কিংবা সন্তান না নেওয়া মহিলাদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।
২. সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ না খাওয়ানো হতে পারে স্তন ক্যান্সারের কারণ।
৩. অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা স্তন ক্যানসারের কারণ।
৪. শারীরিক পরিশ্রম একেবারেই না করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. গর্ভনিরোধক ওষুধ ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়।
৬. অ্যালকোহল পান স্তন ক্যান্সারের কারণ।


রোগের লক্ষণগুলো

১. স্তনে অথবা বগলের নিচে কোনো চাকা বা পিণ্ড। স্তনে অধিকাংশ পিণ্ড বা লাম্প বেনাইন বা অক্ষতিকর। কিন্তু যদি পিণ্ড বা চাকা শক্ত হয়ে থাকে এবং তার অবস্থান সহজে পরিবর্তন না করে তাহলে সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি।
২. স্তনের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া বা ভারী বোধ হওয়া।
৩. স্তনের চামড়া লালচে হওয়া বা ফুসকুড়ি দেখা যাওয়া।
৪. স্তনের চামড়া ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া বা টোল পড়া।
৫. স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
৬. স্তনের আকার এবং আকৃতি পরিবর্তিত হওয়া।
৭. স্তনবৃন্ত দিয়ে রক্ত অথবা জলীয় পদার্থ নির্গত হওয়া।

 

স্তন ক্যান্সারের কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

স্তনে কোনো গোটা, চাকা বা পিণ্ড পরিলক্ষিত হলে অতিসত্বর ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া খুবই জরুরি। ডাক্তার ক্যান্সার সন্দেহ করলে নিচের পরীক্ষাগুলো করে খুব সহজেই ক্যান্সারেরনির্ণয় করা যেতে পারে:
১. মেমোগ্রাম।
২. স্তন এবং বগলের আলট্রাসনোগ্রাম।
৩. এফএনএসি।
৪. কোর বায়োপসি বা ট্রুকাট বায়োপসি এবং হিস্টোপ্যাথলজি।

কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যেতে পারে। যেমন:
১. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। গবেষণায় দেখা গেছে অধিকাংশ স্তন ক্যানসারের রোগী ওবেজ বা স্থূল। তাই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড পরিহার করতে হবে যথাসম্ভব।
২. শারীরিক পরিশ্রম স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা ব্যায়াম করা উচিত এবং বেশি বেশি পরিশ্রম করা উচিত।
৩. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। সবজি জাতীয় খাবার যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ফলমূল এ ধরনের খাবার বেশি খেতে হবে।
৪. মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করাতে হবে।
স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যে যাঁরা আছেন, তাঁদের ঘরে বসেই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা উচিত, যাতে প্রাথমিক স্টেজেই এ রোগটি শনাক্ত করা যায়।

 

স্তন ক্যান্সারের চিকিসা

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
১। অপারেশন (সার্জারি)।
২। ওষুধ (কেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি)।
৩। রেডিওথেরাপি।
ক্যানসারের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী চিকিৎসকেরা একাধিক চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করে থাকেন। যেমন অপারেশন এবং তারপর কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি অথবা অপারেশনের আগে বা পরে কেমোথেরাপি/রেডিওথেরাপি দেওয়া হতে পারে।

সিওপিডি । সুস্থ থাকুক ফুসফুস

HEALTHx

                                          


সিওপিডি ( ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ )

সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ হলো ফুসফুসের তীব্র প্রদাহজনক রোগ যার ফলে ফুসফুসে ঠিকমতো বায়ু-পরিবাহিত হতে পারে না। সারা বিশ্বে, মৃত্যুহার এবং রোগ উপসর্গের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হল সিওপিডি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাবলুএইচও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ৬৫ মিলিয়ন মানুষ সিওপিডি রোগে মাঝারি থেকে গুরুতর রকমভাবে আক্রান্ত।


প্রধান লক্ষণ উপসর্গগুলি

প্রাথমিক অবস্থায়, সিওপিডি হয়েছে কি না তা বুঝতে পারা সহজ হয় না, কারণ উপসর্গগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত অন্যান্য সমস্যার মতোই মনে হয়। 

 


উপসর্গ

 -শ্বাস নিতে অসুবিধা
 -কাশি
 -অত্যাধিক শ্লেষ্মা ক্ষরণ
 -শ্বাস নেবার সময় বুকে সাঁইসাঁই শব্দ
 -বুকে চাপ অনুভব
 -ঠোঁট অথবা হাতের নখের রঙ নীলচে হয়ে যাওয়া
 -ক্লান্তি
 -অকারণে ওজন হ্রাস
 -পায়ের নীচের দিকে ইডিমা বা শোথ


সিওপিডি হল ফুসফুসের তিনটি প্রগতিশীল সমস্যাদীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস, এমফাইসেমা, এবং স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট

কোনো ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস হলে তার উপসর্গগুলি হবে একনাগাড়ে কাশি আর তার সঙ্গে শ্লেষ্মা ক্ষরণ। এফিসেমার ক্ষেত্রে, অ্যালভিওলাই (ফুসফুসের মধ্যে থাকা ছোটো ছোটো বায়ুথলি) আক্রান্ত হয় এবং বিভিন্ন বায়বীয় অস্বস্তিকারক পদার্থের কারণে ধবংস হয়ে যায়, যেমন, সিগারেটের ধোঁয়া।


প্রধান কারণগুলি

সিওপিডির ঝুঁকির বিষয়গুলি ও কারণগুলি হল ধূমপান, জৈব জ্বালানি অথবা ঘরবাড়িতে উৎপন্ন ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা। অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলি হল হৃদযন্ত্রের সমস্যা, বুকজ্বালা, বিষণ্ণতা অথবা ডায়াবেটিস  বা মধুমেহ রোগের মতো একাধিক মারাত্মক সমস্যা। পরোক্ষ ধূমপান ও বিরল জিনঘটিত সমস্যার কারণে শরীরে যদি আলফা-1 এর ঘাটতি হয়, তা থেকে সিওপিডি হতে পারে। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে তা সিওপিডির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


এটি কিভাবে নির্ণয় চিকিৎসা করা হয়?

সিওপিডি নির্ণয় করতে নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করা হয় -

- ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা: ফুসফুসের কার্যক্ষমতা জানার জন্য
- বুকের এক্স-রে: ফুসফুসের অন্য কোনও সমস্যা আছে কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে
- ধমনীর মধ্যে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহের বিশ্লেষণ
- পরীক্ষাগারের পরীক্ষাগুলি
সিওপিডি রোগীর চিকিৎসার জন্য সাধারণত গোল্ড গাইডলাইনস ব্যবহার করা হয়


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

- ধূমপান ত্যাগ করা এবং যতটা সম্ভব ধোঁয়া ও শ্বাসযন্ত্রের অস্বস্তি বাড়ানো পদার্থ এড়িয়ে চলা।

      

ওষুধপত্র

-ব্রঙ্কোডাইলেটরস
- নিঃশ্বাসের মাধ্যমে স্টেরোয়েড নেওয়া
- একাধিক ইনহেলার ব্যবহার করা
- ফসফোডিয়েস্টেরেস-4 ইনহিবিটরস
- অ্যান্টিবায়োটিকস

 

ওষুধপত্রের ব্যবহার ছাড়া চিকিৎসা

 - অক্সিজেন থেরাপি
 - ফুসফুস পুনর্ক্ষম করার প্রক্রিয়া
 

অস্ত্রোপচার

- ফুসফুসের আয়তন কমানোর অস্ত্রোপচার
- ফুসফুস প্রতিস্থাপন
- বুলেকটমি
সিওপিডি রোগের ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ হলো রোগ প্রতিরোধ এবং রোগের বৃদ্ধি রোধ করা
এই রোগ কখনও সম্পূর্ণ সারে না। কিন্তু, সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করলে, সিওপিডি আক্রান্ত ব্যক্তিও সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

মলনুপিরাভির । করোনা চিকিৎসায় নতুন আশা

HEALTHx

 

 

 

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, অতপর মলনুপিরাভির সেবন করুন COVID-19-এর জন্য প্রথম FDA-অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা ছিল রেমডেসিভির যা ইন্ট্রাভেনাস (IV) ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। অ্যান্টিভাইরাল ওরাল পিল হিসেবে সর্বপ্রথম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মলনুপিরাভির ।

রেমডেসিভিরও দেখতে ভাইরাসের জেনেটিক বিল্ডিং ব্লকের মতো। কিন্তু একবার এটি ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানের সাথে যুক্ত হয়ে গেলে, এটি প্রোটিনকে ধীর করে দেয় যা ভাইরাস নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে ব্যবহার করে।

অন্য কথায়, মলনুপিরাভির জেনেটিক উপাদান পরিবর্তন করে যা অনুলিপি করা হচ্ছে, ফলে ত্রুটি দেখা দেয়। রেমডেসিভির অনুলিপি করার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, এটিকে ধীর করে দেয় যাতে অনুলিপি সম্পূর্ণ করা যায় না।

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি মার্ক, শার্প অ্যান্ড ডোম এবং রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিক ওষুধটি উৎপাদন করছে। ওষুধটির ওপর পরীক্ষা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১৭টি দেশে। 

 

মলনুপিরাভির কিভাবে কাজ করে?


মোলনুপিরাভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ যা রাইবোনিউক্লিওসাইড অ্যানালগ নামে পরিচিত। মলনুপিরাভির একই রকম দেখতে SARS-CoV-2 এর জেনেটিক উপাদানে যা একটি বিল্ডিং ব্লকের মতো দেখতে (যে ভাইরাসটি COVID-19 ঘটায়)। যখন মলনুপিরাভির উপস্থিত থাকে, তখন ভাইরাসের একটি প্রোটিন এটিকে ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে।
যখন SARS-CoV-2 এই জেনেটিক উপাদান ব্যবহার করে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে, তখন এর ফলে ত্রুটি (মিউটেশন) হয়। এই ত্রুটিগুলির কারণে ভাইরাস নিজেকে কপি করতে পারে না।

 অ্যান্টিভাইরাল ওরাল পিল মৃদু থেকে মাঝারি কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি ফেজ 3 ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেখিয়েছে, এবং মলনুপিরাভির করোনা রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির হার ৫০ শতাংশ কমাতে পারে।

সম্প্রতি কোভিড আক্রান্ত ৭৭৫ জন রোগীর ওপর মলনুপিরাভিরের ক্লিনিকাল ট্রায়াল পাওয়া গেছে:

যাদের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ৭.৩% হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল যা ১৪.১% রোগীদের সাথে তুলনা করে যাদেরকে প্লাসিবো বা ডামি পিল দেওয়া হয়েছিল।
মলনুপিরাভির গ্রুপে কোন মৃত্যু হয়নি, তবে পরীক্ষায় প্লেসিবো দেওয়া ৮ রোগী পরে কোভিড-এ মারা যান।

ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), বৃটেনের ‘মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি’ বা এমএইচআরএ পরামর্শ দিয়েছে কারও করোনা শনাক্ত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মলনুপিরাভির ওষুধটি খেতে হবে।

 


ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে স্বাভাবিক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগীরা এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো রোগী যাতে এই ওষুধ সেবন না করে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

GERD। ভালো থাকুক পাকস্থলি

HEALTHx

 

 

GERD (গ্যাস্ট্রো-এসোফ্যাজিয়াল রিফ্লেক্স ডিজিজ)

GERD (গ্যাস্ট্রো-এসোফ্যাজিয়াল রিফ্লেক্স ডিজিজ) সর্বাধিক সাধারণ হজম ব্যাধি, যা ঘটে পেটের অম্লীয় রসগুলি যখন খাদ্যনালীতে ফিরে আসে তখন। এটি শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক সকল বয়সের ক্ষেত্রে হতে পারে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং খাদ্যাভাস উন্নত করেও জিইআরডি প্রতিরোধ করা যায়।

এটি দেখা যায় যে হাঁপানি রোগীরা সাধারণত জিইআরডি দ্বারা প্রভাবিত হয়। এটি হ'ল নিম্নোক্ত এসোফ্যাজিয়াল স্ফিন্টারটি হাঁপানি (অ্যাস্থমা) ফ্লেয়ারের সময় নিরুৎসাহিত হয়, যা পেট এর অ্যাসিডকে প্রবাহিত করতে বা এসোফ্যাগাসের নিম্ন অংশে ফেরত পেতে দেয়। শুধু এটিই নয়, এসিড রিফ্লাক্স হাঁপানি রোগীদের জন্য ফুসফুস বা বাতাসে এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

GERD এর রোগীর নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা যেতে পারে,

  • খাবার পরে বুকে জালাপোড়া করা
  • গিলতে অসুবিধা
  • খাদ্য বা তরল রেফ্লাক্স
  • বুক ব্যাথা
  • বদহজম
  • স্বরভঙ্গ
  • ঘুমের অসুবিধা
  • হাঁপানি ক্ষতিকারক উপসর্গ

 

কারণ এবং ঝুঁকি

জিইআরডি মৌলিক কারণ অ্যাসিড রিফ্লাক্স । এসোফ্যাগাসের নিচের অংশে পেশীগুলির একটি ব্যান্ড রয়েছে যা এসোফাজাল স্ফিন্টার গঠন করে। স্ফিন্টার ভোজনের সময় শিথিল হয় এবং আবার বন্ধ হয়। যদি পেশীগুলিতে কোন দুর্বলতা বা অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় তবে এটি জিইআরডি হতে পারে। নিম্নলিখিত ঝুঁকি উপাদান GERD সম্ভাবনা বৃদ্ধি হতে পারে -

  • বিলম্বিত খাবার হজম
  • গর্ভাবস্থা
  • ধূমপান
  • দেরী রাতের খাবার খাওয়া
  • ঘন ঘন ভাজা খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত মদ বা কফি খরচ
  • অ্যাসপিরিন হিসাবে ঔষধ ব্যবহার

 

রোগ নির্ণয়

একটি বিস্তারিত কেস ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পরে, জিইআরডি নির্ণয়ের নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পরীক্ষা পরিচালিত হয় -

  • এন্ডোসকপি
  • অ্যাম্বুলারির অ্যাসিড প্রোব পরীক্ষা
  • এক্স-রে

 

চিকিৎসা

মেডিকেশন

  • H2 ব্লকার 
  • Antacids
  • Prokinetics
  • Antibiotic 

 

অস্ত্রোপচার বিকল্প

  • Fundoplication
  • Endoscopic Proccedure
  • LINX Device

 

খাদ্য তালিকাগত এবং জীবনধারা পরিবর্তন

  • অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন
  • ঘুমানোর আগে 2-3 ঘন্টা খাবেন না
  • ধূমপান এবং এলকোহল ছাড়ুন
  • কোমরের চারপাশে টাইট কাপড় পরা এড়িয়ে চলুন
  • ওজন ব্যবস্থাপনা
  • এসিডিক খাবার এড়িয়ে চলুন যা ক্যাফিন, রসুন, অ্যালকোহল, সস, পেপারমিন্ট, মসলাযুক্ত খাবার, ময়দার খাবার ইত্যাদি ট্রিগার হিসাবে কাজ করে।
  • উদ্বেগ ও চাপ ব্যবস্থাপনা

 

GERD (গ্যাস্ট্রো-এসোফ্যাজিয়াল রিফ্লেক্স ডিজিজ) সম্পর্কিত যেকোন সমস্যায় তাই রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স । সময় এখন সচেতনতার

HEALTHx

 

                   
বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ ২০২১
 এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় - সচেতনতা গড়ে তুলুন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করুন

 

একটি তথ্য খুবই প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ৭০-৮০ শতাংশ রোগী সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়া বা মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাক্টেরিয়া বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে।

২০১২ সালে সেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ ব্যাকটেরিয়াই বাজারে পাওয়া সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বছরে কমপক্ষে ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ এই রকম অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয় এবং বছরে ৩৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

এ প্রেক্ষাপটেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারিভাবে পালিত হচ্ছে সপ্তাহটি। উদ্দেশ্য, জনগণকে অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে সচেতন করা।

 অ্যান্টিবায়োটিক হলো এক ধরনের ওষুধ, যা কিনা মাইক্রো-আর্গানিজমের (অণুজীব) বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু যে বিষয়টিতে সচেতন হতে হবে তা হলো, অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা-কাশিতে জ্বর এলেও আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে থাকি, কারণ এটি বাজারে সহজলভ্য। এমনকি দুই-তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে জ্বর ভালো হয়ে গেলে আমরা আর ওষুধের কোর্স (ডোজ) শেষ করি না। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তৈরি করে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট—অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তখন আর কাজ করতে চায় না।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধী হয়ে ওঠা। ব্যাকটেরিয়ার এ প্রতিরোধ সুনির্দিষ্ট এক বা একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে তৈরি হয়। এর ফলে ব্যাকটেরিয়াসৃষ্ট ইনফেকশন বা সংক্রমণে সেসব অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কার্যকারিতা থাকে না এবং যা থেকে ইনফেকশন বাড়ার মাধ্যমে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

পেনিসিলিন আবিষ্কারের মাধ্যমে ১৯২৮ সালে পৃথিবীতে অ্যান্টিবায়োটিকের যাত্রা শুরু হয় এবং সে সময় থেকে নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট। অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ও অপর্যাপ্ত ব্যবহার (ওষুধের মাত্রা ও সময়কাল), কৃষি ও গবাদিপশুতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ইত্যাদিই পৃথিবীজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট বাড়ার জন্য মূলত দায়ী।

 বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকা রেজিস্ট্যান্ট জিনগুলো প্রাণিদেহে আদান-প্রদান করে এবং খুব সহজে ও অল্প সময়েই তারা বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা লাভ করে। গ্রাম-পজিটিভ ও গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে যারা এই সক্ষমতা অর্জন করে, তাদের ‘সুপারবাগ বা মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া’ বলা হয়।

একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সক্ষমতাসম্পন্ন এসব ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট সংক্রমণ নিরাময়ের জন্য পৃথিবীব্যাপী কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের সংখ্যা নিতান্তই কম। এসব সংক্রমণে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি। একই সঙ্গে এসব সংক্রমণ হাসপাতালে রোগীর অবস্থানকে দীর্ঘায়িত করে এবং রোগীর চিকিৎসার ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। মানুষ ও প্রাণিদেহে অবিবেচকের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অজ্ঞতা, রোগী ও রোগীর চিকিৎসা সরঞ্জাম ময়লা হাতে ধরা এবং অপ্রয়োজনে বা ভাইরাল ইনফেকশনে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রবণতা বিশ্বজুড়ে এই ভয়াবহতার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ২০১৭ সালে সুপারবাগে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রধান মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর বিশ্বে সাত লাখ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মারা যায়। শুধু ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ইনফেকশনে ৫০ হাজার মানুষ প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করে।

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থাও ব্যতিক্রম কিছু নয়।


অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হবার মূল কারণ -

  • প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ
  • সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দিজ্বরে ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া
  • ফার্মেসিগুলোতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয়
  • হাঁস-মুরগি, পশু ও কৃষিতে ব্যাপক হারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার


 সর্বোপরি সাধারণ মানুষের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অজ্ঞতা/ অসচেতনতাই এই সমস্যার মূল কারণ।

দিন দিন সহজলভ্য অ্যান্টিবায়োটিকের এমন অকার্যকর হয়ে পড়াও চিকিৎসাপদ্ধতিকে কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল করে তুলছে। এর ফলে ক্রমবর্ধমান এই সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেওয়া এখন সময়ের দাবি। চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে এবং একই লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে জনগণকেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে সচেতন করতে হবে।

 এ ব্যাপারে বহির্বিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মাসিস্টদের বড় ভূমিকা রয়েছে। রোগীর কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ নির্ণয় করা, রোগীকে ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা—এসবই পারে সফলভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। এরই লক্ষ্যে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারের সচেতনতার পাশাপাশি ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব হবে ওষুধ ব্যবহারবিধি সম্পর্কে রোগীকে সচেতন করা, যেন সে সময়মতো ওষুধ সেবন করে এবং ডোজ সম্পন্ন করে। তাহলে অনেকাংশেই সম্ভব হবে তুলনামূলকভাবে রোগমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ।

করোনার নতুন উদ্বেগ । ওমিক্রন

HEALTHx

 

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনের নাম রাখা হয়েছে ‘ওমিক্রন’। প্রাথমিকভাবে এটির নাম দেওয়া হয়েছিল বি.১.১.৫২৯ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

 

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে ইউরোপের দেশগুলোতে এই মুহূর্তে ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই শনাক্ত হলো ওমিক্রন। একে এখন পর্যন্ত  খোঁজ মেলা করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। মহামারির শুরুর দিকে তুলনামূলক দুর্বল আলফা, বেটা ও গামা ধরনও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

 

ডব্লিউএইচও বিবৃতিতে বলা হয়, সামনে আসা নানা প্রমাণ করোনা মহামারি ক্ষতিকর দিকে মোড় নেওয়ার আভাস দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ওমিক্রন। প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

 

নতুন শনাক্ত হওয়া ধরনটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ধরনটির সংক্রমণের ক্ষমতা এবং শারীরিক জটিলতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এনেছে কিনা তা এ সময়ের মধ্যে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি করোনার প্রচলিত চিকিৎসা ও টিকার ওপর কোনো প্রভাব আসবে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বসতোয়ানা, ইসরায়েল ও হংকংয়ে করোনার নতুন ধরনটির সন্ধান মিলেছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ধরনটি।

 

এদিকে ওমিক্রন শনাক্তের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন করে ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি দেশ থেকে ফ্লাইট চলাচলের ওপর জরুরিভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো। এর পরপরই একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। আফ্রিকার ছয়টি দেশ থেকে বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্যও।



তাই ভ্যাকসিন নেবার পরেও প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

ওমিক্রনের ক্ষেত্রে পুনরায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি

HEALTHx

 

 

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের নাম দেয়া হয়েছে 'ওমিক্রন'।


সারা পৃথিবীতে এখন দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি অন্তত ৩২টি মিউটেশন (জিনগত গঠনের পরিবর্তন) ঘটিয়েছে - যার বৈজ্ঞানিক নাম বি.১.১.৫২৯

ওমিক্রন নিয়ে বিজ্ঞানীরা যে কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তা হলো: এটি অত্যন্ত দ্রুত এবং সহজে ছড়াতে পারে এবং মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়াতে পারে - যার ফলে এর বিরুদ্ধে টিকা কম কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে ।

করোনাভাইরাস যত সহজে ছড়াবে, ততই তাতে আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি হবে - আর এর ফলে কোভিড-১৯ এ গুরুতর অসুস্থ হওয়া ও মৃত্যুর সংখ্যাও ততই বাড়তে থাকবে।


 


প্রাথমিক তথ্য প্রমাণে আরো দেখা গিয়েছে যে ওমিক্রনে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। অর্থাৎ যারা আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন - তাদের সাধারণত দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবার দৃষ্টান্ত কম হলেও - ওমিক্রনের ক্ষেত্রে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।



করোনা ভাইরাস ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এর উপসর্গ

  • চরম ক্লান্তি অনুভব করা

  • পেশিতে মৃদু ব্যথা

  • গলা ভাঙ্গা

  • শুকনো কাশি


পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। তারা এখন কতটা নিরাপদ - তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা; ফাইজার, এ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না, সিনোভ্যাক, স্পুটনিক - এসব টিকা ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে?

এসবই মূলত ওমিক্রন নিয়ে ভয়ের কারণ। বলা দরকার যে ভাইরাস সবসময়ই পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত মিউটেশনের মাধ্যমে নতুন রূপ নিচ্ছে।


ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে মিউটেশন ছিল ১০টি আর বেটায় ৬টি। আর ওমিক্রনের 'ইউনিক' মিউটেশনের সংখ্যা এর অন্যদের চেয়ে  অনেক বেশি। এতেই বোঝা যায় একে মোকাবেলা করা কত কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণ ও এতে ঝুঁকির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে তা আবার বেড়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতেই এখন সচেতন হওয়া খুব বেশি জরুরি।

প্রতিবন্ধীত্ব । প্রয়োজন অধিকার সংরক্ষণ

HEALTHx

 


প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতার প্রসার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং উন্নতি সাধণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ-
কোভিড-১৯-পরবর্তী একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজলভ্য এবং টেকসই বিশ্বের দিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণ।

প্রতিবন্ধীত্ব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরীপ ২০১০ অনুযায়ী, অক্ষমতার হার মোট জনগোষ্ঠির ৯.১ শতাংশ, যদিও ২০১১ সালের জাতীয় আদমশুমারী অনুযায়ী এ হার শতকরা ১.৭ শতাংশ। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান উপলব্ধি হলো এই যে, প্রতিবন্ধী শিশু মূল যে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় সেটা তার বৈকল্য নয়, বরং সেটা হলো ব্যাপক বৈষম্য এবং কুসংস্কার।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য। সমাজের সর্বস্তরে এরূপ একটি বিশ্বাস আছে যে, প্রতিবন্ধীত্ব একটি অভিশাপ এবং এটি পাপ কাজের শাস্তি যা প্রতিবন্ধীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ যত্ম, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা এবং অংশগ্রহণের সুযোগকে প্রভাবিত করে।

প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাস্থ্যসেবা অথবা বিদ্যালয়ে যাওয়ার সবচেয়ে কম সুযোগ পায়। বিশেষ করে তাদেরকে লুকিয়ে রাখলে কিংবা প্রতিষ্ঠানে দিলে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সকল গোষ্ঠির মধ্যে তারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, অপব্যবহার, শোষণ এবং অবহেলার শিকার হয়। লিঙ্গও একটি গুরত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় কারন ছেলের তুলনায় প্রতিবন্ধী মেয়েরা কম যত্ন পায়।

 

প্রতিবন্ধী শিশুর পরিস্থিতি বিশ্লেষণে (২০১৪) দেখা যায় যে, শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিশুরা বাংলাদেশে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার ৯৭ শতাংশ হলেও মাত্র ১১ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু যে কোনো ধরনের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।

প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য গৃহিত উদ্যোগগুলো বিশেষায়িত এবং আলাদা। এ ধরনের উদ্যোগগুলো মূলধারার কর্মসূচি ও সেবার আওতার বাইরে থেকে যায়।

জন্মনিবন্ধন না করার মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী অনেক শিশুর জীবনের প্রথম থেকেই বঞ্চণার শুরু হয়। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির কারণে তারা সামাজিক সেবা ও আইনগত নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়।

উন্নয়নের ধীরগতির সত্ত্বেও পরিমার্জন এবং সামাজিক সচেতনতার কারণে পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা যায়। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকারের বাড়তি সুযোগ এবং দক্ষতার বিকাশ ও চাকুরীর সুযোগ তৈরী হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুরক্ষা আইন, বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেবার উন্নতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ২০০৭ সালে প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ সনদ (সিআরপিডি) এবং ২০০৮ সালে ঐচ্ছিক প্রোটোকলে স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশগুলোর অন্যতম। সিআরপিডি রাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরসহ সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পূর্ণ ও সমান অধিকার ভোগ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

এ সনদটি বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের অবস্থার পর্যালোচনা এবং সমাজে তাদের অন্তর্ভূক্তির জন্য পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপন করে।

২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রাকে (এসডিজি) সামনে রেখে  বাংলাদেশ  অনগ্রসর প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন, অংশগ্রহণ ও সুরক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

 

প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজে সত্যিকার অন্তর্ভুক্তির জন্য ভুল ধারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধে  খাতভিত্তিক কার্যক্রমের অধীনে সহায়ক আচরণ ও সামাজিক পরিবর্তনের কৌশল তৈরিতে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

 

ডিপ্রেশন । কেবল মন খারাপ নয়

HEALTHx

 


যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের মন খারাপ করে দেয়। এটি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মন খারাপের মাত্রা কিংবা স্থায়িত্ব যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন সেটিকে বলে ডিপ্রেশন।
 একজন মানুষের যেকোন সময়ে ডিপ্রেশন হতে পারে,তবে প্রথম আক্রান্ত হওয়াটা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সাধারণত বেশি দেখা যায়। নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার পুরুষদের থেকে বেশি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ৩ ভাগের ১ ভাগ নারীরা তাদের জীবনের যেকোন এক সময় মেজর ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়েছেন। ডিপ্রেশন ও মন খারাপ এক নয় ! আমাদের দেশে একটি বহুল প্রচারিত ভূল ধারণা হচ্ছে,মন খারাপেরই অপর নাম হচ্ছে ডিপ্রেশন । 

 

২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশে বর্তমানে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত রোগীর হার শতকরা ৬.৭ শতাংশ। ডিপ্রেশন একজন মানুষকে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে বিকলাঙ্গ করে দিতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী এরকম সব অসুখের তালিকার মধ্যে ডিপ্রেশনের স্থান চতুর্থ। শুধু মানসিক রোগের তালিকার মধ্যে ডিপ্রেশনের অবস্থান প্রথম।
প্রত্যেক বছর প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি ১৫ জনের ১জন ডিপ্রেশনে ভোগেন। প্রতি ৬ জনের ১ জন তাদের জীবনে কোন একসময় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়েছেন।

 

ডিপ্রেশনের ধরন: ডিপ্রেশনের ধরন বা ক্লাসিফিকেশনের তালিকাটা বেশ লম্বা। ক্লিনিক্যালি যে ক্লাসিফিকেশনটা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, সেটি হলো-

  • Endogenous depression
  • Reactive/Exogenous depression

যে ডিপ্রেশনের পেছনে আপাতদৃষ্টিতে কোনো কারণ পাওয়া যায় না, তাকে বলে Endogenous বা বায়োলজিকাল ডিপ্রেশন
আর যে ডিপ্রেশনের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনা বা সমস্যা পাওয়া যায়, সেটি হলো Reactive depression.

ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার প্রকারভেদটি সম্পর্কে সবার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডিপ্রেশন সম্পর্কিত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হচ্ছে- ডিপ্রেশন হতে হলে তার পেছনে অবশ্যই কোনো না কোন কারণ থাকতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই, এমন কোনো মানুষ যদি ডিপ্রেশনের কথা বলেন, আমরা তার সমস্যাকে হেসেই উড়িয়ে দেই। ফলাফল, এ মানুষগুলো সঠিক চিকিৎসার অভাবে দিনের পর দিন মানসিক কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

 

ডিপ্রেশনের কারণ: ডিপ্রেশনের কারণ হিসেবে এককথায় বলা যায় সেরোটনিনের হ্রাস। কথায় বলে, Serotonin is happiness. যদিও সেরোটনিন ছাড়া আরও নিউরোট্রান্সমিটারের (যেমন- ডোপামিন, নরইপিনেফ্রিন, গাবা ইত্যাদি) তারতম্য ঘটে থাকে। তবুও সবচেয়ে বেশি প্রভাব হচ্ছে সেরোটনিনের।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেরোটনিন কেন কমে?
প্রথমত, কারো যদি বংশে ডিপ্রেশনের হিস্ট্রি থাকে (ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভদের মাঝে)। তাদের রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২০-৩০%। অন্যদিকে কারো কারো ব্যক্তিত্বের ধরন থাকে এমন যেটি ডিপ্রেশনের প্রভাবক। আবার আপাতদৃষ্টিতে কোনো কারণ ছাড়াই সেরোটনিন কমতে পারে যা বায়োলজিকাল ডিপ্রেশন।

দ্বিতীয়ত, প্রতিকূল পরিবেশ বা ঘটনা ডিপ্রেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। বিশেষত, জীবনের প্রথমার্ধে ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যেটিকে আমরা বলি Adverse early life experiences। পরবর্তী জীবনে ডিপ্রেশন হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এজন্য দেখা যায়, যেসব বাচ্চা ছোটবেলার কোনো ঘটনায় বড় ধরনের মানসিক আঘাত পেয়ে থাকে (যেমন- বাবা-মায়ের ডিভোর্স, বাবা-মা মারা যাওয়া, শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ইত্যাদি)। তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই পরবর্তীতে ব্যক্তিত্বের সমস্যা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে দেখা দেয় বিষণ্নতা।

লিঙ্গভেদেও ডিপ্রেশনের তারতম্য দেখা যায়। সাধারণত ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ডিপ্রেশন হওয়ার হার দ্বিগুণ। এর কারণ হিসেবে অনেকগুলো হাইপোথিসিস আছে। এক, মেয়েরা স্বভাবগতভাবেই তাদের কষ্টের অনুভূতিগুলো মনের মধ্যে চেপে রাখে। যেটা পরবর্তীতে প্রকাশ পায় ডিপ্রেশন আকারে। দুই, বিভিন্ন সমাজে প্রথাগতভাবেই ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার বেশি হয় মেয়েরা। তিন, মেয়েদের হরমোনাল তারতম্য।

এসবের বাইরে ছেলেদের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশনের হার কম হওয়ার দুটি ইন্টারেস্টিং থিওরি আছে। যার একটি হলো- ছেলেরা সহজে ডিপ্রেশনের কথা স্বীকার করতে চায় না। এর কারণ সম্ভবত সমাজের সেই চিরায়ত রীতি, ‘ছেলেদের কখনো কষ্ট পেতে নেই। কষ্ট পাওয়া, কান্নাকাটি করা সেসব তো মেয়েদের কাজ!’ আরেকটি হলো- ভুল ডায়াগনোসিস। বেশিরভাগ ছেলেই ডিপ্রেশন ভুলতে গিয়ে নেশার জগতে ডুব দেয়। ডাক্তারের কাছে যখন আসে; তখন সে একজন পুরোদস্তুর মাদকাসক্ত। ফলাফল, এসব রোগীরা ডিপ্রেসড হিসেবে ডায়াগনোসড না হয়ে ডায়াগনোসড হয় ‘সাবস্টেন্স এবিউজার’ হিসেবে।


লক্ষণসমূহ: ডিএসএম-৫ অনুযায়ী ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডারগুলোর একটি সবচেয়ে কমন ডিজঅর্ডারটি হলো ‘Major Depressive Disorder’ বা সংক্ষেপে এমডিডি।
এই এমডিডি’র কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ আছে। লক্ষণগুলো নিম্নরূপ-

  • Depressed mood, অর্থাৎ দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ থাকা এবং এই মন খারাপ ঘরে-বাইরে সব জায়গায়, সব পরিস্থিতিতেই বিদ্যমান।
  • Diminished Interest বা pleasure, অর্থাৎ কোনো কাজেই আগ্রহ বা আনন্দ না পাওয়া।
  • খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়ার পরও ওজনের তারতম্য হওয়া।
  • ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা অথবা অতিরিক্ত ঘুমানো।
  • অতিরিক্ত উত্তেজনা অথবা একেবারে ঝিম ধরে থাকা।
  • শারীরিকভাবে দুর্বল লাগা।
  • নিজেকে ভীষণ রকমের অযোগ্য মনে হওয়া অথবা অযাচিত অপরাধবোধে ভোগা।
  • কাজে-কর্মে মনোযোগ দিতে না পারা অথবা সিদ্ধান্তহীনতা। অনেক সময় এ মনোযোগহীনতার ব্যাপারটি পেশেন্ট এভাবে নিয়ে আসে যে, ‘ইদানীং সবকিছু ভুলে যাচ্ছি’। আসলে প্রধান সমস্যা এখানে ভুলে যাওয়া নয়, কাজ করার সময় যথাযথ মনোযোগ দিতে না পারার কারণে পরবর্তীতে সেই বিষয়টি ব্যক্তি আর মনে করতে পারেন না।
  • জীবনকে অর্থহীন মনে হওয়া, মরে যেতে ইচ্ছা করা, অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার পরিকল্পনা থাকা কিংবা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াও আত্মহত্যার ইচ্ছা অথবা ইতোমধ্যে কোনো সুইসাইড অ্যাটেম্পটের হিস্ট্রি থাকা।

লক্ষণগুলোর মধ্যে যদি অন্তত ৫টি বা তার বেশি লক্ষণ (যাদের মধ্যে একটি অবশ্যই প্রথম দুটির একটি) যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে অন্তত ২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকে এবং এগুলো তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, তবেই তাকে আমরা Major Depressive Disorder বলব।

মনে রাখবেন, ‘দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটা’ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, অনেকেই আছেন যারা লক্ষণগুলো নিয়েও হয়তো নিজেদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারছেন, তাদের আমরা ডিপ্রেশনের আওতায় আনব না।

 

ব্যতিক্রমী লক্ষণসমূহ: আলোচ্য লক্ষণগুলো ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিপ্রেশনের কিছু ব্যতিক্রমী লক্ষণ দেখা যায়। বিশেষত, বাচ্চারা বেশিরভাগ সময়ই মন খারাপের চেয়ে ‘খিটখিটে মেজাজ’ নিয়ে আসে। সেক্ষেত্রে কোনো বাবা-মা যদি এমন অভিযোগ করেন যে, তার হাসিখুশি সন্তান হঠাৎ করেই খুব খিটখিটে হয়ে গেছে। তখন অন্যান্য ডায়াগনোসিসের সাথে সাথে ডিপ্রেশনের ব্যাপারটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

আরেকটি ব্যতিক্রমী লক্ষণ হলো ‘মুড রিয়্যাক্টিভিটি’। সাধারণত ডিপ্রেসড মানুষের কোনো কিছুতেই মন ভালো হয় না, আনন্দের সংবাদ শুনলেও আনন্দ লাগে না। তবে যাদের মুড রিয়্যাক্টিভিটি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে মন খারাপ থাকলেও কোনো আনন্দের সংবাদ শুনলে বা আনন্দের ঘটনা হলে তাদের মন কিছু সময়ের জন্য হলেও ভালো লাগে।

এর বাদে ডিপ্রেশনের রোগীরা প্রায়ই বিভিন্ন শারীরিক কম্পলেইন নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন। বিশেষ করে আমাদের দেশে; আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে গ্রামাঞ্চলে এবং পরিবারের নারী সদস্যদের, যেখানে মনের রোগের তেমন কোনো গুরুত্বই নেই, সেখানে ‘আমার মন খারাপ’ কথাটি বলার চেয়ে ‘আমার মাথা ব্যথা, মাথার তালু জ্বলে’ বললে পরিবারের সদস্যদের কাছে ডাক্তার দেখানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া যায়।

তবে এর মানে এই নয় যে, রোগী এগুলো বানিয়ে বানিয়ে বলেন। সত্যিকার অর্থেই ডিপ্রেশনের রোগীদের সোমাটিক সিম্পটমস থাকে। কিন্তু সেই সাথে তাদের মনটাও খারাপ থাকে। একটু ভালোমত হিস্ট্রি নিলেই যেটা বের হয়ে আসে।

 

ডিপ্রেশন এবং বিরেভমেন্ট: ডিপ্রেশনের কাছাকাছি কিছু বিষয় আছে, যেগুলো অনেক সময় ডিপ্রেশন হিসেবে ভুল ডায়াগনোসিস হয়। তেমন একটি বিষয় হচ্ছে বিরেভমেন্ট (Bereavement)। বিরেভমেন্ট অর্থ খুব কাছের কোনো মানুষের আকস্মিক মৃত্যু পরবর্তী শোক। প্রিয় মানুষের মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। আর সেই মৃত্যু যদি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত, তাহলে শোকের পাল্লা আরও ভারি হয়ে যায়।

এধরনের শোকে অনেক সময় মানুষের কিছু মানসিক লক্ষণ এবং আচরণ দেখা দেয়, যেগুলো এরকম পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে এটিকে ডিপ্রেশন বলে মনে হতে পারে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, বিরেভমেন্ট থেকে কী কখনো ডিপ্রেশন হতে পারে? এর উত্তর হচ্ছে- ‘হ্যাঁ’। বিরেভমেন্ট একটি স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু সেটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ নির্দিষ্ট সময়কাল হচ্ছে ছয় মাস। কিন্তু কারো যদি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বিরেভমেন্টের সিম্পটমগুলো থেকে যায়, তখন সেটিকে আমরা কমপ্লেক্স বিরেভমেন্ট (complex bereavement) বলি। কমপ্লেক্স বিরেভমেন্ট একটি পর্যায়ে গিয়ে ডিপ্রেশনের আকার ধারন করতে পারে।

ডিপ্রেশন বা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার একটি এপিসোডিক রোগ। তাই এপিসোড আকারে রোগটি বারবার ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। বলা হয়ে থাকে, একবার এ অসুখ হলে পরবর্তীতে অসুখ ফিরে আসার সম্ভাবনা শতকরা ৮০ ভাগ। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে, বংশে এ রোগের ইতিহাস থেকে না থাকলে এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন ও ডাক্তারের ফলোআপে থাকলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসা: ডিপ্রেশনের চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে ডিপ্রেশনের মাত্রা এবং ধরন অনুযায়ী। সেই হিসেবে ওষুধ এবং সাইকোথেরাপি দুটোরই ভূমিকা আছে। যেমন মাইল্ড ডিপ্রেশনে ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, কিছু সাইকোথেরাপি যথেষ্ট। আবার মডারেট বা সিভিয়ার ডিপ্রেশনে ওষুধ এবং ক্ষেত্রবিশেষে সাইকোথেরাপিরও প্রয়োজন হয়।

কাজেই আপনার আশেপাশের ডিপ্রেসড মানুষটিকে অবহেলা না করে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হন। সম্ভব হলে তাকে সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনুন।

ডিপ্রেশনসহ যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ক্লিক করুন এখানে...

 

হেলথএক্স নিয়ে এলো পরিবারের সদস্যদের জন্যে আনলিমিটেড টেলিমেডিসিন প্যাকেজ

HEALTHx

 

 

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় অন্যতম হেলথ্‌ টেক প্রতিষ্ঠান হেলথএক্স, পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়ে এলো “ফ্যামিলি ডক্টর প্যাকেজ”।

এক্সক্লুসিভ এই প্যাকেজে সাবস্ক্রাইব করলেই পরিবারের ৬ জন সদস্যে উপভোগ করতে পারছেন অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা  আনলিমিটেডবার ভিডিও কন্সাল্টেশান; তাও দিনরাত ২৪ ঘন্টা - যেকোনোদিন, যেকোনোসময়, যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায়। 

 

স্থায়িত্বকাল এবং চার্জের ওপর ভিত্তি করে সাবস্ক্রাইবারগণ বেছে নিতে পারছেন পছন্দ ও প্রয়োজনমত যেকোনো ১টি প্যাকেজ - 

  • ৩ মাসজুড়ে আনলিমিটেড ডাক্তার ভিডিও কন্সাল্টেশান মাত্র ৩৯৯ টাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা

  • ৬ মাসজুড়ে আনলিমিটেড ডাক্তার ভিডিও কন্সাল্টেশান মাত্র ৬৯৯ টাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা

  • ১২ মাসজুড়ে আনলিমিটেড ডাক্তার ভিডিও কন্সাল্টেশান মাত্র ৯৯৯ টাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা

 

যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ২৪/৭ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্যে হেলথএক্স এর আছে নিবেদিতপ্রাণ ডাক্তার ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ারগিভার প্যানেল। ফ্যামিলি ডক্টর প্যাকেজের পাশাপাশি হেলথএক্স বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা  প্রদান করে থাকে যার মধ্যে টেলিমেডিসিন, হোম ডক্টর ভিজিট, হোম নার্সিং ও ফিজিওথেরাপি সেবা, মেডিসিন হোম ডেলিভারি এবং প্যাথলজি টেস্টে হোম স্যাম্পল কালেকশান ইত্যাদি অন্যতম।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোস্তফা হাসান বলেন - “ডাক্তার ও চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতার কারণে জনসাধারণের জন্যে দেশে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেকাংশেই দুস্কর। এনসিডি কিংবা অসংক্রামক রোগের ক্রমশ বৃদ্ধি (হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি), ডাক্তার এবং চিকিৎসাসেবার অসম বন্টন, এবং কোভিড - ১৯ এর মত রোগের উদ্ভব ক্রমশ এই চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে আরো বেশি করে। 

একই সাথে, বাংলাদেশে চিকিৎসাব্যায়ের ৭৩% এর বেশি খরচ বহন করতে হয় রোগীকে। 

এই সমস্যা সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা নিয়ে এসেছি “ফ্যামিলি ডক্টর প্যাকেজ” যা যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা সঠিক চিকিৎসেবা পাবার রাস্তায় কমবেশি সকল সমস্যার সমাধান করবে। আমরা আশা করছি  “ফ্যামিলি ডক্টর প্যাকেজ” সাবস্ক্রাইবারদের এসকল সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ নামিয়ে আনবে অনেকাংশেই।"

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হেলথএক্স একটি ডিজিটাল হেলথ্‌ প্রতিষ্ঠান যা প্রাথমিক এবং আবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের জন্যে টেলিহেলথ, হোম হেলথ্‌ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন  স্বাস্থ্য প্যাকেজ এবং গ্রাহক, চিকিৎসক, ফার্মেসি ও হাসপাতালের জন্য ক্লাউড-ভিত্তিক  এইচআইএমএস (স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম) সেবা প্রদান করে থাকে।

এই শীতে নিউমোনিয়া । নিয়ম মানলেই সম্ভব সুস্থতা

HEALTHx

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা - এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে গোটা বিশ্বে নিউমোনিয়ায় আট লক্ষেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

নিউমোনিয়া হল ফুসফুসের সংক্রমণজনিত একটি রোগ। এই রোগ সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের আক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও ফুসফুসে ছত্রাকের সংক্রমণের ফলেও নিউমোনিয়া হয়। নিউমোনিয়া রোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হল ফুসফুসে ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

নিউমোনিয়া নিরাময় যোগ্য এবং প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতি বছর অসংখ্য শিশু এই রোগে আক্রন্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর নিউমোনিয়ায় মোট যত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হয় তার ১৫ শতাংশই হল শিশু যাদের বয়স পাঁচ বছর বা তারও কম। ২০১৭ সালে মোট ৬৯৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে বাড়তে থাকা দূষণ শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ও বৃদ্ধ নিউমোনিয়ার কারণে মারা যায়। আর শীতের সময় তা বৃদ্ধি পায়। তবে সাবধানতা অবলম্বন করলে এই নিউমোনিয়া প্রতিরোধ সম্ভব। এখন সরকারিভাবে শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধ টিকা দেওয়া হয়।

শিশুর শ্বাসকষ্ট বুঝবেন কীভাবে

দুই মাসের নিচের শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসের হার মিনিটে ৬০ বারের বেশি, এক বছরের নিচে ৫০ বার বা তার বেশি এবং এক বছর থেকে পাঁচ বছরের শিশুর মিনিটে ৪০ বার তা তার বেশি শ্বাসপ্রশ্বাস হলে তাকে শ্বাসকষ্ট বলা হয়। 

তাই জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত শিশু এ রকম ঘন ঘন শ্বাস নিলে বা শ্বাসের সঙ্গে বুক বা পাঁজর নিচে দেবে যেতে থাকলে সতর্ক হোন, হয়তো সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।


নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি যাদের 

১. ছোট্ট শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা।

২. বহুদিন ধরে ভুগছে এমন কোনো রোগ থাকলে, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদ্​রোগ, ফুসফুসের অন্য কোনো রোগ, এইডস ইত্যাদি থাকলে।

৩. যাদের অন্য কোনো কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে, যেমন ক্যানসারের চিকিৎসা নিলে, স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধ সেবন করলে।

৪. যাঁরা ধূমপান করেন।

৫. যাঁরা বিভিন্ন খেলাধুলা, বিশেষ করে রাতে, যেমন ব্যাডমিন্টন খেলেন, তাঁদের একটু সচেতন হওয়া উচিত। কারণ, গা ঘেমে তা যদি আবার শরীরে শুকিয়ে যায়, তাহলে তা থেকে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি হতে পারে। সেখান থেকে নিউমোনিয়া হতে পারে। তবে সুখবর হলো, যাঁরা নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করেন, তাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে সাধারণত এসব অসুখে কম ভোগেন। আর এই তীব্র শীতে বাড়ি থেকে বের হলে মুখে মাস্ক পরা যেতে পারে। তাহলে শ্বাসনালিতে ঠান্ডাজনিত সমস্যাগুলো কম হবে। 


কী জটিলতা দেখা দেয়

১. রক্তপ্রবাহে জীবাণুর সংক্রমণ

২. ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা এবং সংক্রমণ 

৩. ফুসফুসে ঘা হয়ে ক্ষত হতে পারে

৪. তীব্র শ্বাসকষ্ট

নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়? 

হ্যাঁ, নিউমোনিয়া প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতন হলে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।

১. নিতে হবে নিউমনিয়ার ভ্যাকসিনসহ অন্য রোগেরও, যারা নিউমোনিয়া করতে পারে। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে বা ৬৫ বছরের ওপরে বয়সীদের অথবা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। 

২. নিয়মিত হাত ধুতে হবে। যেমন নাক পরিষ্কারের পর, বাথরুমে যাওয়ার পর, খাবার আগে ও পরে। 

৩. ধূমপান বন্ধ করতে হবে। কারণ, ধূমপান ফুসফুসের রোগপ্রতিরোধ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। ফলে সহজেই সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। ধূমপায়ীদের নিউমোনিয়া সহজেই জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

৪. এ ছাড়া সাধারণ ঠান্ডা লাগলেও খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি খারাপ দিকে না যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, পরিমিত বিশ্রাম নিতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিশু জন্মের পর ইপিআই শিডিউলের ভ্যাকসিনগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

৫. শিশুকে চুলার ধোঁয়া, মশার কয়েল ও সিগারেটের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখাও জরুরি।

চিকিৎসা

সাধারণত নিউমোনিয়ার চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। এ জন্য সঠিক ওষুধের পাশাপাশি এ সময় প্রচুর তরল খাবার, পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে হবে। নিউমোনিয়া ভালো হতে দু–তিন সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। কুসুম গরম পানি, লবণপানি বা লাল চা দেওয়া যেতে পারে। নাকে নরমাল স্যালাইন, নরসল ড্রপ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অন্য কোনো ওষুধজাতীয় ড্রপ দেওয়া যাবে না। দুই বছরের নিচের শিশুদের বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না। বুকে তেল, ভিক্স বাম ব্যবহার করাও উচিত নয়। শিশুদের সামান্য কাশিতে অহেতুক সাকশন যন্ত্র দিয়ে কফ পরিষ্কার বা নেবুলাইজার যন্ত্র ব্যবহারও ঠিক নয়। 

তবে অবস্থা সংকটাপন্ন হলে, অর্থাৎ খুব বেশি শ্বাসকষ্ট, সবকিছুই বমি করে দিলে, শিশু অজ্ঞান হয়ে গেলে বা খিঁচুনি হলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে অথবা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

 

 

ডায়াবেটিস। প্রভাব যখন অর্থনীতিতে

HEALTHx

 

 

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের ডায়াবেটিস আছে। তার মধ্যে প্রায় ২০ কোটি মানুষ জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস নামক মারাত্মক এক রোগ আছে। আগামী ২০৩৫ সালে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাড়াবে প্রায় ৬০ কোটি।

যেহেতু ৯৫% ডায়াবেটিস রোগ টাইপ ২ প্রকারের, সুতরাং লাইফস্টাইল পরিবর্তন এই রোগের সম্ভাবনা ৬০% কমিয়ে দিতে পারে। আজকাল অজানা কারণে অজ্ঞান হওয়া রোগির জন্য প্রথম যেই টেস্ট করা হয় সেটা হলো - ডায়াবেটিস এর কমপ্লিকেশন হাইপো অথবা হাপারগ্লাইসেমিয়া। যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাদের ৭৫% রোগী ৬০ বছরের  আগেই মারা যায়।।

ডায়াবেটিস নামের আভিধানিক অর্থ "Sweet Urine" বা মিষ্টি মূত্র। মূত্রের উৎকট গন্ধের মধ্যেও যদি পিঁপড়ার আগমন হয়, তাহলে ধরে নিতে পারেন এই লোকের ডায়াবেটিস আছে। কারন রেনাল থ্রেসহোল্ড ক্রস করার পর গ্লুকোজ আর শরীরে থাকতে চায় না। অসমোটিক ডাইউরেসিস হয় বলে বার বার প্রস্রাব হয়, তাই একে বহুমুত্রও বলে।

 

আসুন জেনে নেই এই ডায়াবেটিস রোগের ভয়াবহতার কিছু চিত্র -

১। পৃথিবীর সব রোগের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল রোগের নাম ডায়াবেটিস। শুধু বাংলাদেশেই এই রোগে রোগীর সংখ্যা প্রায় ১.৫ কোটি। তার মানে প্রতি ১১ জনের মধ্যে ১ জনের ডায়াবেটিস আছে।

২।  সাড়া বছরে সাড়া দুনিয়ায় যত মানুষ এইডস ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে মারা যায় শুধু ডায়াবেটিসে মৃত্যুর সংখ্যা একক ভাবে তার চেয়েও বেশী ।

৩। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রায় ৬৭% রোগী স্ট্রোক অথবা হার্ট এটাকে মারা যান।

৪। ডায়াবেটিস সাইলেন্ট কিলার । তাই গোপনে কিডনি, রেটিনা, হার্ট , ব্রেইনকে নষ্ট করে দিবে। এখানে মজার বিষয় হলো- ফ্রাংক ডায়াবেটিসের চেয়ে অল্প মাত্রা ডায়াবেটিস বা ইমপেয়ারড গ্লুকোজ আরো বেশী ক্ষতিকর।

৫।।আমেরিকান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশন এনার্জি ড্রিংকস খেতে কড়া ভাবে নিষেধ করেছেন। কারন এটা একবারে ব্লাড গ্লুকোজ খুব দ্রুত বাড়িয়ে ফেলে। এতে ইনসুলিন রিলিজের সেকুয়েন্স নষ্ট হয়। ডিজগ্লাইসেমিয়া হয়ে যেতে পারে এতে। আল্টিমেটলি ডায়াবেটিস। 

 

আমাদের দেশের মানুষ এর ধারনা - চিনি অথবা মিস্টি বেশী খেলে ডায়াবেটিস হয়। ধারনাটা সম্পূর্ন ভুল। কারন টাইপ ১ ডায়াবেটিস জন্ম থেকেই থাকে।

আবার রিসিপ্রোকাল ধারনাও আছে সবার মধ্যে। সেটা হলো - ডায়াবেটিস হলে মিস্টি অথবা চিনি খাওয়া যাবে না। সেটা আরো বড় ভুল। একটা মিষ্টি খেলে একবেলা কার্বোহাইড্রেট মানে ভাত বা রুটি বন্ধ রাখলেই সমান হয়ে গেলো।।

মনে রাখতে হবে - ডায়াবেটিস এর জন্যে মিষ্টি বাঁধা নয়, কিন্তু ডায়েট, ড্রাগ অথবা ডিসিপ্লিন মেনে ডায়াবেটিসকে কন্ট্রোল করা হলো বড় ব্যাপার। মাঝে মাঝে গ্লুকোজ কমে হাইপো হয়ে যেতে পারে - তখন মিষ্টি বা চিনির পানি না দিলে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে।

করোনা আক্রান্ত রোগীর যদি পূর্ব থেকেই ডায়াবেটিস থেকে থাকে, তাহলে মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে যারা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা নেন তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৭২ ভাগ ট্যাবলেট খান এবং প্রায় ১৭ ভাগ ইনসুলিন নেন। বাকি ১১ শতাংশের দুটোই প্রয়োজন।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি।

একজন রোগীর যদি প্রতিমাসে গড়ে দুই হাজার টাকা খরচ হয়, তাহলে সে হিসেবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বাবদ প্রতিমাসে বাংলাদেশে খরচ হচ্ছে প্রতি মাসে ১৪ শত কোটি টাকা এবং প্রতি বছরে খরচ হচ্ছে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
ডায়াবেটিস অন্য আরো নানা ধরনের রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে চিকিৎসা ব্যয় বাড়তেই থাকে।

শারীরিক পরিশ্রম এবং খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন না হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় দুর্যোগের বার্তা নিয়ে আসবে ডায়াবেটিস।

এ রোগের চিকিৎসা নিতে মানুষের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে তেমনি মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। যেটি দেশেও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জরায়ু ক্যান্সার । স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়

HEALTHx

 

 

 

জরায়ু / জরায়ুমুখ ক্যান্সার ( Cervical cancer) নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন।

সাধারণত ১৫ বছর বয়সের পর থেকেই জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা নেয়া যায়। মোট তিন ডোজ টিকা নিতে হয় প্রথম ডোজের এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং প্রথম ডোজের ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা নিতে হয়। টিকা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা করালে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের আক্রমণ হার কমিয়ে আনা যায়।

টিকা ছাড়াও জরায়ু ক্যান্সার থেকে বাচার উপায় হল নিয়মিত স্ক্রিনিং। স্ক্রিনিং এর ফলে এই ক্যান্সার প্রথম দিকে ধরা যায়, ফলে সহজে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। জরায়ু ক্যানসারের স্ক্রিনিং এর জন্য ৩০ বছর বয়স থেকে (অথবা বিয়ের পাঁচ বছর পূর্ণ হবার পর থেকে) প্রতি তিন বছর পর পর নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ভায়া (VIA: Visual inspection by acetic acid) পরীক্ষা করানো উচিত। বাংলাদেশে বেশিরভাগ সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে এই স্ক্রিনিং করা হয়। তবে ৬৫ বছরের পর এই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়, তখন আর নিয়মিত এই স্ক্রিনিং করানোর প্রয়োজন নেই।

জরায়ু ক্যান্সারকে বলা হয় 'নীরবঘাতক'। কারণ এই অসুখে আক্রান্ত হলেও অনেক নারী এর লক্ষণ বুঝতে পারেন না। আবার ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক সময় গুরুত্ব দেন না।

আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের পরেই জরায়ুমুখ ক্যান্সারের স্থান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৫ লাখ ৭০ হাজার নারী এই জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার নারী এর ফলে মারা যান। আর ৯০ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনাই ঘটছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার বা আইএআরসি'র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ৮ হাজার ২৬৮ জন নারীর শরীরে শনাক্ত হচ্ছে জরায়ুর ক্যান্সার। আর বছরে ৪ হাজার ৯৭১ জন নারী জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন।

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসকে (এইচপিভি) জরায়ুমুখ ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০০টিরও বেশি প্রজাতির এইচপিভি আছে। এর মধ্যে দুই ধরনের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কারণে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে । তবে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পরপরই কিন্তু ক্যান্সার হয় না।

গবেষক ও চিকিৎসকরা বলছেন, জীবাণু প্রবেশের পর ১৫ থেকে ২০ বছরও সময় লাগে জরায়ুমুখের ক্যান্সার হতে। তার মানে হলো এটি নির্ণয়ে অনেকটা সময় পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং এর বিকল্প নেই।

অন্য ধরনের ক্যান্সারের তুলনায় জরায়ু মুখের ক্যান্সার কিন্তু খুব সহজে নির্ণয় করা যায়। তবে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের মুল সমস্যা হল এটি শেষ পর্যায়ে গেলেই শুধুমাত্র ব্যথা দেখা দেয়। আর এই ক্যান্সারের লক্ষণগুলোকে অনেকেই পিরিয়ডের মেয়েলী সমস্যা বলে ভুল করে থাকেন। এমন ভুল যেন না হয়, সেজন্য সতর্ক থেকে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা নিন এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং করিয়ে ডাক্তারের যথাযথ পরামর্শ মেনে সুস্থ থাকুন।

মনে রাখবেন, স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়।

জরায়ু ক্যান্সারে যেকোনো লক্ষণ পেলে যতদ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অনালাইনেই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে ক্লিক করুন এখানে...

ওভারিয়ান সিস্ট । লক্ষণ ও প্রতিকার

HEALTHx

 

 

মহিলাদের প্রজননতন্ত্রের অন্যতম হল ডিম্বাশয় যা ডিম্বাণু ( ঋতুস্রাবের সময়ে ডিম্বাণু বিমুক্ত করে ) উৎপাদনে সাহায্য করে। ডিম্বাশয়ের মধ্যে ছোট গ্রন্থি থাকে যেগুলি ঋতুস্রাবকালীন সময়ে উৎপন্ন হয় এবং ডিম্বাণু মুক্ত করে শরীরের সঙ্গে মিশে যায়। যা ডিম্বাশয়ের মধ্যে কোন গ্রন্থি ডিম্বাণু মুক্ত না করে বা ডিম্বাণু মুক্ত করার পর মিশে না যায় বা দুটিই হয় তখন ওভারিয়ান সিস্ট গঠন হয়।ফলে, গ্রন্থিটি তরল পদার্থ ভর্তি বুদবুদের মতো ফুলে ওঠে।

মহিলাদের মধ্যে ওভারিয়ান সিস্ট গঠন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা এবং তার কোনও উপসর্গ না ও দেখা যেতে পারে, অর্থাৎ দীর্ঘদিন উপসর্গহীন অবস্থায় থাকতে পারে। এই অবস্থার সাধারণ ইঙ্গিত হচ্ছে তলপেটে ব্যাথা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, এবং আকস্মিক ওজন বেড়ে যাওয়া। মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয় অনিমিত হরমোন নিঃসরণ। অন্যান্য কারণ স্বাস্থ্যের অবস্থার মধ্যে নিহিত থাকে, যেমন ফাইব্রয়েড বা এন্ডোমেট্রিওসিস, যা একজন মহিলার ওভারিয়ান সিস্ট গঠনের পক্ষে অনুকূল অবস্থা। এই সিস্টগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানের সাহায্যে নির্ণয়র্ণ এবং নিরাময় করা যায়। বহু ক্ষেত্রে সিস্ট কয়েকমাসের মধ্যে নিরাময় হয়ে যায়, এবং কোনও চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সিস্টগুলি ক্যান্সারপ্রবণ হতে পারে। ওভারিয়ান সিস্ট-এর চিকিৎসায় হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন হয়ে পরে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সাহায্যে সিস্ট অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। তাতে সাধারণত ফল ভাল হয়। চিকিৎসা না করে ফেলে রেখে দিলে ওভারিয়ান সিস্ট থেকে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।


ওভারিয়ান সিস্ট এর উপসর্গ
সক্রিয় বা ফাংশনাল সিস্টের সাধারণত কোনও উপসর্গ থাকে না। তবে অস্বাভাবিক বা প্যাথলজিক্যাল সিস্টের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপসর্গ দের্গ খা যায় তার মধ্যে আছে

  • তলপেটে ব্যাথা, তা তীব্র বা মন্দমন্দ হতে পারে।
  • ফুলে ওঠা (ব্লোটিং)
  • বমিভাব
  • বমি করা
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • পেট কষে যাওয়া (কনস্টিপেশন)
  • অনিয়মিত ঋতুস্রাব
  • তলপেট ফুলে ওঠা এবং নরম বা টেন্ডার হওয়া


ওভারিয়ান সিস্ট-এর অপেক্ষাকৃত কম উপসর্গের মধ্যে আছে:

  • শারীরিক মিলনের সময় যন্ত্রণা
  • ব্যাখ্যাবিহীন যোনিতে রক্তক্ষরণ
  • স্তনে হাল্কা ব্যাথা বা টেন্ডারনেস
  • বারবার প্রস্রাব
  • উরুতে এবং পিঠের নিচের দিকে ব্যাথা
  • হঠাৎ ওজনবৃদ্ধি

যদিও ওভারিয়ান সিস্ট-এর কারণে বেশিরভাগ মহিলার সন্তান উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয় না, কিছু মহিলার প্রসূতি হওয়া সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।


ওভারিয়ান সিস্ট এর চিকিৎসা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওভারিয়ান সিস্ট কয়েক মাসের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় নিরাময় হয়। এই সব ক্ষেত্রে কোনও উপসর্গ দের্গ খা যায় না। যে সব কারণে থেরাপি বা চিকিৎসার প্রয়োজন হবে সিস্টের আয়তন, তা থেকে কী উপসর্গ হচ্ছে, মহিলার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিনা-এসবের উপর।


চিকিৎসা
 হরমোনের ভারসম্য রক্ষার জন্য (জন্মনিরোধক পিল) পরামর্শ দিতে পারেন। তার ফলে সক্রিয় বা ফাংশনাল সিস্ট গঠনে বাধার সৃষ্টি হবে। এছাড়াও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।


অস্ত্রোপচার
বড় আকারের সিস্ট, যা থেকে ব্যাথা এবং বড় হয়ে ওঠা বা ফুলে ওঠা জাতীয় উপসর্গ দেখা দেয়, তা অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হতে পারে।
অস্ত্রোপচার দু’টি ভিন্ন উপায়ে করা যেতে পারে:

  • ল্যাপারোস্কোপি
  • ল্যাপারোটমি


লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট

  • ক্যাফিন গ্রহণ সীমিত করুন
  • চিনি খাওয়া কমান
  • ইস্ট্রোজেন গ্রহণ সীমিত করুন
  • স্টেরয়েড ওষুধ এড়িয়ে চলুন
  • সুষম খাদ্য খান
  • ব্যায়ামের জন্য নির্দিষ্ট সময়
  • ঋতুস্রাবের সাময় আরামদায়ক কাপড় পরুন
  • প্রচুর পানি পান করুন
  • বিশ্রাম নিন


মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার কারণে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে বলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। সক্রিয় বা ফাং শনাল সিস্টের অন্যতম স্বাভাবিক কারণ হল মানসিক চাপ। এই কারণে, নিরুদ্বেগ জীবনের জন্য যে সব কৌশল অবলম্বন করতে হবে তার মধ্যে আছে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, ধ্যান করা, ব্যায়াম করা, বা কোনও থেরাপি করানো, যাতে শরীর এবং মন একটি ভারসাম্যের অবস্থানে থাকতে পারে।